অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আমলে বাতিল হওয়া ৩১টি নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিদ্যুৎ প্রকল্পের লেটার অব ইনটেন্ট (এলওআই) বা সম্মতিপত্র পুনর্বহালের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এ তথ্য জানিয়ে বলেছেন, যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রকল্পগুলো পুনর্মূল্যায়ন করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাজধানীর একটি হোটেলে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত চতুর্থ বাংলাদেশ-চীন নবায়নযোগ্য জ্বালানি ফোরামে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে সিটিমিড গ্রুপের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাকির আহমেদ বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে নেওয়া নীতিগত সিদ্ধান্তগুলো বিদ্যুৎ খাতের দুর্বলতা আরও বাড়িয়েছে।
এসময় তিনি বলেন, ‘আমি এসব প্রকল্প আবার খুলে দিচ্ছি। যোগ্যতার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করে যেগুলো কার্যকর, সেগুলো রাখা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কোন কারণ ও কী ভিত্তিতে এসব প্রকল্প বাতিল করা হয়েছিল, তা আমার মন্ত্রণালয়কে উপস্থাপন করতে বলেছি। আশা করছি, আগামী ৮ থেকে ১০ দিনের মধ্যে আমরা করণীয় নির্ধারণ করতে পারব।’
ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, ‘বিদ্যুৎ খাত আগেই নাজুক অবস্থায় ছিল। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের নীতিগত পদক্ষেপ কার্যত এটিকে আইসিইউতে পাঠিয়ে দিয়েছে।’
তিনি বলেন, আদালতের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও ৩৭টি এলওআই বাতিল করা হয়েছে, যেখানে প্রকল্পগুলো চালু রাখা বা পুনরায় আলোচনা করার কথা ছিল। এতে বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়ায় ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, সরকার এসব প্রকল্পের সম্মতিপত্র পুনর্বহালের উদ্যোগ নিয়েছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।
তিনি বলেন, ‘আজই যদি শুরু করা যেত, আমরা করতাম। কিন্তু আগে কিছু প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে। তারপরও আমরা দ্রুত এগোচ্ছি, কারণ বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতিতে আমাদের সামনে অন্য কোনো বিকল্প নেই।’
ড. ইউনূস দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় এক মাস পরে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে এই নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর এলওআই বাতিল করা হয়।
তখন সরকার বলেছিল, ২০১০ সালের কুইক এনার্জি সাপ্লাই (স্পেশাল প্রভিশন) আইনের আওতায় আওয়ামী লীগ আমলে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ছাড়াই এসব প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা তখন এ সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
বাতিল হওয়া প্রকল্পগুলোর মোট উৎপাদন সক্ষমতা ছিল প্রায় ৩ হাজার ৩০০ মেগাওয়াট। এর মধ্যে বেশিরভাগই সৌরবিদ্যুৎ, প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বায়ুবিদ্যুৎ এবং ২৫ মেগাওয়াট বর্জ্যভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প ছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রকল্পগুলো বাতিল না হলে ক্লির এনার্জি রূপান্তরের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ আরও শক্ত অবস্থানে থাকতে পারত।







