মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরুর ১০ দিন পর আজ সোমবার ২৭ হাজার টনেরও বেশি ডিজেল নিয়ে একটি ট্যাংকার চট্টগ্রাম বন্দরের জলসীমায় পৌঁছেছে। এছাড়াও আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে আরও চারটি ট্যাংকারের বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
বন্দর সূত্রে জানা গেছে, পাঁচটি ট্যাংকার মিলিয়ে প্রায় ১ লাখ ৪৭ হাজার ২০৫ টন পরিশোধিত ডিজেল রয়েছে। এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে এই ডিজেল আমদানি করা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের জেরে দেশে ডিজেলের চাহিদা বেড়েছে। তাই মজুত ঠিক রাখতে সরকার কমিয়েছে সরকার।
বন্দর সূত্র জানায়, সিঙ্গাপুর থেকে ২৭ হাজার ২০৪ টন ডিজেল নিয়ে শিউ চি নামের ট্যাংকারটি আজ বন্দর জলসীমায় পৌঁছেছে। মেরিন ট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ট্যাংকারটি কুতুবদিয়ার কাছে নোঙর করেছে।
শিপিং এজেন্টরা জানিয়েছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আরও চারটি ডিজেলবাহী ট্যাংকার বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
আরেকটি ট্যাংকার লিয়ান হুয়ান হু সোমবার রাতে সিঙ্গাপুর থেকে প্রায় ৩০ হাজার টন ডিজেল নিয়ে বন্দরে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া এসপিটি থেমিস নামের ট্যাংকারটি বৃহস্পতিবার ৩০ হাজার ৪৮৪ টন ডিজেল নিয়ে বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
আরও দুটি ট্যাংকার র্যাফেলস সামুরাই ও চাং হাং হং তু শনিবার বন্দরে আগামী শনিবার বন্দরে পৌঁছাতে পারে। এ দুটি ট্যাংকারে প্রায় ৩০ হাজার টন করে ডিজেল রয়েছে।
চারটি ট্যাংকারের স্থানীয় এজেন্ট প্রাইড শিপিং লাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নজরুল ইসলাম দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী এক সপ্তাহের মধ্যেই ট্যাংকারগুলো পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এগুলো বন্দরের জলসীমায় পৌঁছানোর পর পর্যায়ক্রমে ডিজেল খালাস শুরু হবে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) তথ্য অনুযায়ী, দেশে ডিজেলের স্বাভাবিক চাহিদা প্রতিদিন প্রায় ১২ হাজার টন। এই পাঁচটি ট্যাংকারের ডিজেল দিয়ে ১২ দিনের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব।
তবে মজুত ধরে রাখতে সরকার গতকাল রোববার থেকে দৈনিক ডিজেল সরবরাহ কমিয়ে ৯ হাজার টনে নামিয়ে এনেছে। এই হারে সরবরাহ করা হলে ওই পরিমাণ ডিজেল দিয়ে ১৬ দিনের চাহিদা মেটানো যাবে।
বর্তমানে যে মজুত রয়েছে তা দিয়ে আরও ১৬–১৭ দিন চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। ফলে নতুন চালানসহ মোট সরবরাহ দিয়ে প্রায় এক মাসের ডিজেল চাহিদা মেটানো যেতে পারে।
বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের মোট জ্বালানি ব্যবহারের প্রায় ৭০ শতাংশই ডিজেল, যার বেশিরভাগই সরাসরি আমদানি করা হয়।
প্রদা/ডিও






