ব্যাংকগুলোর উদ্বৃত্ত ডলার কিনে বাজারে টাকা দিচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এতে ব্যাংকে তারল্য বেড়েছে। তবে বিনিয়োগ চাহিদা বাড়েনি। অন্যদিকে ব্যাংকগুলোর কেন্দ্রীয় ব্যাংকে টাকার ওপর সুদহার কমানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তাসহ বিভিন্ন কারণে দীর্ঘদিন ধরে নতুন বিনিয়োগে ধীরগতি রয়েছে। বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে গত ডিসেম্বরে ৬ দশমিক ১ শতাংশে নেমেছে। চলতি অর্থবছরের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ৪৯০ কোটি ডলার কিনেছে। এর বিপরীতে বাজারে দেওয়া হয়েছে ৬০ হাজার কোটি টাকা। সব মিলিয়ে ব্যাংক খাতে উদ্বৃত্ত তারল্য বেড়েছে।
অনেক ব্যাংক উদ্বৃত্ত তারল্যের বড় অংশই কেন্দ্রীয় ব্যাংকে রাখছিল। তবে এ ক্ষেত্রে নিরুৎসাহিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটির সুদহার দুই দফায় ১০০ বেসিস পয়েন্ট কমিয়ে সাড়ে ৭ শতাংশে নামিয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, বাজারে ঋণের চাহিদা বাড়াতে এবং ব্যাংকগুলোকে শিল্প ও ব্যবসা খাতে ঋণ দিতে উৎসাহিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে ব্যবসায়ীরা নতুন বিনিয়োগে এখনো সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি গত ডিসেম্বরে নেমে এসেছে ৬ দশমিক ১ শতাংশে, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে অন্যতম নিম্ন হার। সাধারণত অর্থনীতিতে বিনিয়োগ বাড়লে ঋণ প্রবৃদ্ধিও বাড়ে। কিন্তু বর্তমানে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, আমদানি ব্যয়ের চাপ এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে অনেক উদ্যোক্তা বড় বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত স্থগিত রেখেছেন।
ব্যাংকাররা বলছেন, অনেক প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন সক্ষমতা পুরোপুরি ব্যবহৃত হচ্ছে না। ফলে নতুন ঋণ নেওয়ার আগ্রহ কম। পাশাপাশি সুদের হার তুলনামূলক বেশি থাকায় অনেক ব্যবসায়ী ঋণ নেওয়ার বিষয়ে দ্বিধায় আছেন।
অর্থনীতিবিদদের মতে, শুধু তারল্য বাড়ালেই বিনিয়োগ বাড়ে না। বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজন স্থিতিশীল ব্যবসায়িক পরিবেশ, নীতিগত ধারাবাহিকতা এবং অর্থনৈতিক আস্থার উন্নতি। এসব বিষয় উন্নত না হলে ব্যাংকে টাকা থাকলেও তা বাস্তব অর্থনীতিতে প্রবাহিত হবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, সামনের মাসগুলোতে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের গতি ধীরে ধীরে বাড়তে পারে। তখন ব্যাংকগুলোর উদ্বৃত্ত তারল্য শিল্প ও উৎপাদন খাতে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে।