যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাতের আশঙ্কায় তেল সরবরাহ বিঘ্নিত হতে পারে—এমন ভাবনা এবং জেনেভায় ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে আলোচনা কোনো সমাধান ছাড়াই শেষ হওয়ার জেরে বুধবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম ৪ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে।
ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২.৯৩ ডলার বেড়েছে। শতাংশের হিসাবে এ টি ৪.৩৫ শতাংশ বৃদ্ধি, দাম দাঁড়িয়েছে ৭০.৩৫ ডলার। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২.৮৬ ডলার বেড়েছে, শতাংশের হিসাবে বৃদ্ধি ৪.৫৯ শতাংশ। এতে দাম হয়েছে ৬৫.১৯ ডলার। আগের দিন দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্নে নেমেছিল তেলের দাম। বুধবার উভয় চুক্তিই ৩০ জানুয়ারির পর সর্বোচ্চ দরে পৌঁছায়।
প্রাইস ফিউচারস গ্রুপের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক ফিল ফ্লিন বলেন, দিনের শেষ ভাগে দাম আরও বাড়ে। উভয় চুক্তির দাম ৩ ডলারের বেশি বৃদ্ধি পায়। গণমাধ্যমে ইরানে হামলার সম্ভাবনার খবর আসে। এর পরই বাজারে উল্লম্ফন দেখা যায়। একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের হিটিং অয়েল ফিউচারের দামও প্রায় ৫ শতাংশ বেড়েছে।
লিপো অয়েল অ্যাসোসিয়েটসের প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড্রু লিপো বলেন, ‘আজ তেলের দামে বড় ধরনের পরিবর্তনের একমাত্র কারণ ভূ-রাজনীতি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বৈঠক এবং রাশিয়া ও ইউক্রেনের বৈঠক নিয়ে খবরের প্রতিক্রিয়ায় বাজার ওঠানামা করছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘তেল সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার বাড়তি ঝুঁকিকে বিবেচনায় নিচ্ছে তেলের বাজার।’
মঙ্গলবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি পারমাণবিক আলোচনার অগ্রগতির কথা জানান। এরপর তেলের দাম কমে। তবে বুধবার ফারস বার্তা সংস্থা নতুন খবর দেয়। জানানো হয়, ইরান ও রাশিয়া যৌথ নৌ মহড়া চালাবে।
মঙ্গলবার আলোচনা শুরুর সময় ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম একটি ঘোষণা দেয়। নিরাপত্তার কারণে হরমুজ প্রণালীর কিছু অংশ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। পরে জানানো হয়, প্রণালী কয়েক ঘণ্টার জন্য বন্ধ ছিল। এটি পুরোপুরি খুলে দেওয়া হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট করা হয়নি। বিশ্ব তেল সরবরাহে এই জলপথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এসইবি-এর প্রধান পণ্য বিশ্লেষক বিজার্ন শিলড্রপ এক নোটে লেখেন, ‘ইরান এখন (মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড) ট্রাম্পের আলোচনার কৌশল বুঝে গেছে। তারা এটাও জানে যে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল রপ্তানি বন্ধ হওয়া এবং তেলের দাম ব্যারেলে ১৫০ ডলারে উঠে যাওয়া—এটাই ট্রাম্পের জন্য সবচেয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয়। তাই ইরান শান্তভাবে আলোচনা করার সময় পাচ্ছে।’
রাজনৈতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ইউরেশিয়া গ্রুপ মঙ্গলবার তাদের গ্রাহকদের এক নোটে জানিয়েছে, তাদের মতে এপ্রিলের শেষের দিকে ইরানে মার্কিন সামরিক হামলার আশঙ্কা ৬৫ শতাংশ।
এগেইন ক্যাপিটালের জন কিলডাফ বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র থেকে ওই অঞ্চলে যে বিপুল পরিমাণ সামরিক সরঞ্জাম আসছে, সবাই সেদিকে নজর রাখছে। এটি আসন্ন সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে।’
রাশিয়া-ইউক্রেন শান্তি আলোচনা সমাধান ছাড়াই শেষ
জেনেভায় ইউক্রেন ও রাশিয়ার দুই দিনের শান্তি আলোচনা বুধবার শেষ হয়েছে। কিন্তু এতে কোনো সমাধান আসেনি। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, আলোচনা ‘কঠিন’ ছিল। তিনি অভিযোগ করেন, মস্কো প্রক্রিয়াটি বিলম্বিত করছে।
এদিকে রুশ বাহিনীর হামলা অব্যাহত রয়েছে। বিদ্যুৎ গ্রিডে আঘাতের খবর পাওয়া যাচ্ছে। রণক্ষেত্রেও উত্তেজনা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে চাপের কথা উল্লেখ করা হয়।
এগেইন ক্যাপিটালের কিলডাফ বলেন, ‘রাশিয়ার রপ্তানির ওপর নতুন করে কড়াকড়ি আরোপের প্রচেষ্টা চলছে। জেলেনস্কি যেমন ইঙ্গিত দিয়েছেন, আলোচনা যদি ভেস্তে যায়, তবে শেষ পর্যন্ত বিশ্ববাজারে রাশিয়ার রপ্তানির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। এটি অবশ্যই তেলের দাম বাড়াতে সহায়তা করবে।’
বাজার সূত্রগুলো যুক্তরাষ্ট্রের মজুদের তথ্যও তুলে ধরে। গত সপ্তাহে অপরিশোধিত তেল, পেট্রোল ও ডিস্টিলেটের মজুত কমেছে। অথচ রয়টার্সের জরিপে মজুত বাড়ার পূর্বাভাস ছিল। বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন প্রকাশের দিকে ব্যবসায়ীরা নজর রাখবেন।
প্রদা/ডিও







