জাতিসংঘের অধীনে শরীফ ওসমান হাদি হত্যার তদন্ত ও হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অভিমুখে যাত্রা করেছিল ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে পুলিশের সঙ্গে সংগঠনটির তীব্র সংঘর্ষ হয়। এসময় আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ জলকামান ও টিয়ারগ্যাস ব্যবহার করে।
জানা গেছে, যমুনা অভিমুখে যাওয়ার সময় পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে সামনে এগিয়ে যেতে গেলে পুলিশ ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদের বাধা দেয়। এসময় পুলিশের ছোঁড়া গুলিতে সংগঠনটির সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। এ ছাড়া রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মারসহ প্রায় ৪০ জন আহত হয়েছে বলেও জানা গেছে।
এদিকে আব্দুল্লাহ আল জাবেরের ফেসবুক আইডি থেকে জানানো হয়, ‘শতাধিক আহত ও জাবের গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।’ শান্তভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, আপাতত কোন জমায়েত করবেন না। আমরা চিকিৎসা নিয়ে আবার রাজপথে আসবো। হাসপাতালে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা দাবি করেন, জাবেরের পায়ে গুলি করেছে পুলিশ।
এদিকে আবদুল্লাহ আল জাবেরের ওপর রাবার বুলেট নিক্ষেপের প্রতিবাদ জানিয়ে মিছিল নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছেন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী নাসিরুদ্দীন পাটোয়ারী। ‘জাবেরের ওপর হামলা কেনো? প্রশাসন বিচার চাই’ স্লোগান দিচ্ছেন তারা। এ ছাড়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে রয়েছেন রমনা বিভাগের ডিসি মাসুদ আলম।
ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে জানানো হয়, হাদি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত জাতিসংঘের অধীনে নেওয়ার বিষয়ে সরকারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। শুক্রবারের মধ্যেই এ বিষয়ে জাতিসংঘে চিঠি পাঠানোর দাবি জানান আন্দোলনকারীরা।
এর আগে বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে রাতভর একই স্থানে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা। কর্মসূচিতে অংশ নেন ওসমান হাদির স্ত্রী রাবেয়া ইসলাম শম্পা, ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার মুখপাত্র ও ডাকসু নেত্রী ফাতিমা তাসনিম জুমা।
প্রদা/ডিও






