বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় নির্যাতন ও গুমের শিকার ব্যক্তিদের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ এবং পুনর্বাসনের অধিকার নিশ্চিত করতে এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। আন্তর্জাতিক কনভেনশন (CAT)-এর ১৪(১) অনুচ্ছেদে বাংলাদেশ কর্তৃক দীর্ঘকাল ধরে বহাল রাখা ডিক্লেয়ারেশন বা সংরক্ষণ (Reservation) প্রত্যাহারের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের সাপ্তাহিক বৈঠকে এই ঐতিহাসিক প্রস্তাবটি অনুমোদিত হয়। বৈঠক শেষে আজ শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রেক্ষাপট ও আইনি বাধা: নির্যাতন এবং অন্যান্য নিষ্ঠুর, অমানবিক বা অবমাননাকর আচরণ বা শাস্তির বিরুদ্ধে জাতিসংঘ কনভেনশন (CAT) ১৯৮৪ সালে গৃহীত হয়। বাংলাদেশ ১৯৯৮ সালে এই চুক্তিতে অনুসমর্থন দিলেও এর অনুচ্ছেদ ১৪(১)-এর ওপর একটি বিশেষ রিজার্ভেশন প্রদান করেছিল। ফলে এতদিন রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের অধিকার কার্যকরভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব ছিল না। বাংলাদেশ ছাড়াও বাহামা, ফিজি, নিউজিল্যান্ড, সামোয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র এই অনুচ্ছেদে একই ধরণের রিজার্ভেশন দিয়েছিল।
সিদ্ধান্তের প্রভাব: উপদেষ্টা পরিষদ এই রিজার্ভেশন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় এখন থেকে রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের পুনর্বাসন ও ন্যায্য ক্ষতিপূরণ পাওয়ার পথ সুগম হলো। নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে যদি নির্যাতনে কোনো ভুক্তভোগীর মৃত্যু ঘটে, তবে তার ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিরাও আইন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকারী হবেন।
মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি: উপদেষ্টা পরিষদ এই পদক্ষেপকে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেছে। তাদের মতে, এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মানবাধিকার সংরক্ষণে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রের জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে। উল্লেখ্য যে, এই ডিক্লেয়ারেশন প্রত্যাহার ছিল বাংলাদেশের মানবাধিকারকর্মীদের গত দুই দশকেরও বেশি সময়ের একটি অন্যতম প্রধান দাবি।
উল্লেখ্য, গতকালের বৈঠকে এই প্রস্তাব ছাড়াও ছয়টি অধ্যাদেশ ও তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবের খসড়া অনুমোদন দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।
প্রদা/ডিও







