ব্যক্তি করদাতাদের জন্য বড় সুসংবাদ নিয়ে এলো জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা আরও এক মাস বাড়িয়ে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) এক বিশেষ আদেশের মাধ্যমে এনবিআর এই সিদ্ধান্ত জানায়, যার ফলে করদাতারা কোনো প্রকার জরিমানা ছাড়াই আরও চার সপ্তাহ সময় পাচ্ছেন।
আয়কর আইন অনুযায়ী সাধারণত প্রতি বছর ৩০ নভেম্বর রিটার্ন জমার শেষ দিন হলেও, করদাতাদের প্রস্তুতি এবং অনলাইন ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপের কথা বিবেচনা করে এবারও কয়েক দফায় সময় বাড়ানো হলো। এনবিআরের এই নমনীয় সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য হলো করদাতাদের স্বতঃস্ফূর্তভাবে রিটার্ন দাখিলে উৎসাহিত করা।
বর্তমানে দেশে ১ কোটি ১৫ লাখের বেশি টিআইএনধারী থাকলেও এখন পর্যন্ত প্রায় ৩৪ লাখ করদাতা তাদের রিটার্ন জমা দিয়েছেন। বাকি বিপুল সংখ্যক করদাতাকে আইনের আওতায় আনতেই এই সময়বৃদ্ধির পদক্ষেপ।
এবারের অর্থবছরের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক হলো প্রায় সব করদাতার জন্য অনলাইনে বা ই-রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অনলাইন প্রক্রিয়ায় রিটার্ন জমা দেওয়া এখন আগের চেয়ে অনেক সহজ। করদাতাদের এনবিআরের নির্ধারিত ওয়েবসাইটে গিয়ে একবার নিবন্ধন সম্পন্ন করলেই তারা নিজস্ব আইডি ও পাসওয়ার্ড পাবেন। ই-রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে কোনো বাড়তি কাগজপত্র আপলোড করার ঝামেলা নেই; শুধু সঠিক তথ্যগুলো নির্ধারিত ঘরে পূরণ করলেই কাজ সম্পন্ন হয়।
তবে এনবিআর পরামর্শ দিয়েছে যে, যেসব নথিপত্রের তথ্য দেওয়া হচ্ছে সেগুলো যেন করদাতারা নিজেদের কাছে সংরক্ষণ করেন, যাতে ভবিষ্যতে নিরীক্ষার সময় কোনো জটিলতা না হয়।
ডিজিটাল বাংলাদেশের লক্ষ্য পূরণে কর পরিশোধের ব্যবস্থাতেও আনা হয়েছে আধুনিকতা। করদাতারা এখন চাইলে ঘরে বসেই ব্যাংক ট্রান্সফার, ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের পাশাপাশি বিকাশ, রকেট বা নগদের মতো মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে তাদের কর পরিশোধ করতে পারছেন।
এই সহজলভ্যতা এবং বাড়তি সময়ের সুবিধা গ্রহণ করে শেষ মুহূর্তের ভিড় এড়িয়ে দ্রুত রিটার্ন জমা দেওয়ার জন্য করদাতাদের অনুরোধ জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
প্রদা/ডিও







