আন্তর্জাতিক বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমলেও বাংলাদেশের বাজারে এর সুফল পাচ্ছেন না সাধারণ ভোক্তারা। আসন্ন রমজানকে সামনে রেখে উল্টো অনেক পণ্যের দাম চড়া হতে শুরু করেছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক এক পর্যালোচনা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন বৈপরীত্যের চিত্র। রোববার (২৫ জানুয়ারি) সচিবালয়ে দ্রব্যমূল্য ও বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা বিষয়ক টাস্কফোর্স কমিটির বৈঠকে এই প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করা হয়।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে আন্তর্জাতিক বাজারে মোটা চালের দাম প্রায় ১৮.৬৫ শতাংশ কমলেও দেশের বাজারে তা বেড়েছে ৮.৫৭ শতাংশ। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি মোটা চাল ৫৪ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একই চিত্র ভোজ্যতেলের ক্ষেত্রেও; গত এক মাসে বিশ্ববাজারে সয়াবিন তেলের দাম ৩ শতাংশের বেশি কমলেও দেশের বাজারে বোতলজাত সয়াবিনের দাম বেড়েছে ১.৫৭ শতাংশ। পাম অয়েলের ক্ষেত্রে এই ব্যবধান আরও বেশি—বিশ্ববাজারে দাম ১১.৮২ শতাংশ কমলেও দেশের বাজারে তা সামান্য বেড়েছে। এমনকি মসুর ডালের প্রধান আমদানির উৎস ভারত ও অস্ট্রেলিয়ায় দাম কমলেও দেশের বাজারে মাঝারি ও ছোট দানার ডালের দাম এখনো বাড়তি।
তবে বাজারের সব খবরই নেতিবাচক নয়। প্রতিবেদনে পেঁয়াজ ও খেজুরের দামে কিছুটা স্বস্তির ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসায় গত এক মাসে এর দাম প্রায় ১৮ শতাংশ কমেছে। ইফতারের অপরিহার্য উপাদান খেজুরের দামও মানভেদে প্রতি কেজিতে ২.৬৭ শতাংশ কমেছে। এছাড়া আদা, রসুন ও ছোলার দামও বর্তমানে নিম্নমুখী রয়েছে।
বাণিজ্য উপদেষ্টা রমজানে পণ্যমূল্য নাগালের মধ্যে থাকার আশ্বাস দিলেও মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে ভোজ্যতেলের সরবরাহ নিয়ে আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে। রমজানে তেলের চাহিদা প্রায় ৩ লাখ টন হলেও গত নভেম্বর ও ডিসেম্বরে আগের বছরের তুলনায় আমদানি ও এলসি (ঋণপত্র) খোলার পরিমাণ কমেছে। এর ফলে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে রোজা শুরু হলে বাজারে ভোজ্যতেলের সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষক ও কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামান এই পরিস্থিতির জন্য সরাসরি ব্যবসায়ীদের ‘সিন্ডিকেট’ ও ‘দুর্বৃত্তায়ন’কে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা ডলারের দামের অজুহাত দিলেও বাস্তবে বিশ্ববাজারে দাম কমার সুফল সাধারণ মানুষ পায় না দুর্বল বাজার তদারকির কারণে। সরকারের নজরদারি সংস্থাগুলো অনেক ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারছে না বলেও তিনি মনে করেন।
বৈঠক শেষে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন অবশ্য ভোক্তাদের আশ্বস্ত করেছেন। তিনি জানান, গত বছরের তুলনায় এবার নিত্যপণ্য আমদানি ৪০ শতাংশ বেশি হওয়ায় এবারের রমজান গতবারের চেয়ে স্বস্তিদায়ক হবে। ব্যবসায়ীরাও বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। উপদেষ্টার মতে, আমদানির এই বাড়তি প্রবাহের কারণে কিছু কিছু পণ্যের দাম রমজানে আরও কমবে এবং তা মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকবে।
প্রদা/ডিও







