দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় পর চট্টগ্রামের মাটিতে পা রেখে চট্টগ্রামের সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের এক সমন্বিত রূপরেখা ঘোষণা করলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
রোববার দুপুরে নগরের ঐতিহাসিক পলোগ্রাউন্ড মাঠে আয়োজিত জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে তিনি চট্টগ্রামকে দেশের প্রকৃত ‘বাণিজ্যিক রাজধানী’ ও ‘কর্মসংস্থানের হাব’ হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন। প্রিয় নেতাকে সামনে পেয়ে এদিন পুরো বন্দরনগরী উচ্ছ্বাসে মাতোয়ারা হয়ে ওঠে।
বক্তব্যের শুরুতেই তারেক রহমান চট্টগ্রামের সঙ্গে তাঁর পরিবারের গভীর ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, “চট্টগ্রাম থেকেই আমার বাবা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন এবং এই মাটিতেই তিনি চিরনিদ্রায় শায়িত। আবার এই শহরই আমার মা বেগম খালেদা জিয়াকে ‘দেশনেত্রী’ উপাধিতে ভূষিত করেছিল। তাই চট্টগ্রামের সাথে আমাদের পরিবারের সম্পর্ক কোনো সাধারণ রাজনৈতিক সম্পর্ক নয়, বরং এটি হৃদয়ের আজন্ম বন্ধন।”
তারেক রহমান ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সফলতাকে ৭১-এর স্বাধীনতার সাথে তুলনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের মানুষ এখন এমন এক অর্থবহ পরিবর্তন প্রত্যাশা করছে যেখানে শিক্ষা ও সুচিকিৎসার মতো মৌলিক অধিকারগুলো প্রতিটি দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে। তিনি স্পষ্ট করেন, কেবল ক্ষমতার বদল নয়, বরং জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তনই বিএনপির লক্ষ্য।
চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের অভিশাপ ‘জলাবদ্ধতা’ নিরসনে তিনি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার কথা জানান। নালা-নর্দমা ও খালগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে পরিকল্পিতভাবে ‘খাল কাটা কর্মসূচি’র মাধ্যমে এই সংকট দূর করবে। এছাড়াও তিনি মনে করিয়ে দেন যে, চট্টগ্রামের বর্তমান ইপিজেডগুলো বিএনপির আমলেই গড়ে উঠেছিল। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করলে নতুন নতুন ইপিজেড স্থাপনের মাধ্যমে চট্টগ্রামকে কর্মসংস্থানের প্রাণকেন্দ্রে পরিণত করা হবে।
উল্লেখ্য, ২০০৫ সালের পর এটিই তারেক রহমানের প্রথম চট্টগ্রাম সফর। শনিবার সন্ধ্যায় তাঁর আগমনের পর থেকেই পুরো শহর ব্যানার-ফেস্টুনে ছেয়ে যায়। রোববার সকাল থেকেই পলোগ্রাউন্ড মাঠ ছাপিয়ে জনস্রোত আশপাশের সড়কে ছড়িয়ে পড়ে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তারেক রহমানের এই সফরের মাধ্যমে চট্টগ্রামের রাজনীতিতে এক নতুন উদ্দীপনা তৈরি হলো, যা আগামীর নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলবে।
প্রদা/ডিও






