বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, চট্টগ্রাম থেকেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন, আবার এই মাটিতেই তিনি শহীদ হয়েছেন। এই চট্টগ্রামেই খালেদা জিয়াকে ‘দেশনেত্রী’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছিল। তাই চট্টগ্রামের সঙ্গে আমার এবং আমার পরিবারের এক গভীর আবেগের সম্পর্ক রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালে আমরা যে স্বাধীনতা অর্জন করেছিলাম, ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার আন্দোলন সেই স্বাধীনতাকে রক্ষা করেছে। বাংলাদেশের মানুষ এখন এমন একটি অর্থবহ পরিবর্তন চায়, যার মাধ্যমে প্রতিটি নাগরিক উন্নত শিক্ষা ও সুচিকিৎসার সুনিশ্চিত সুযোগ পাবে।
রোববার দুপুরে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক পলোগ্রাউন্ড মাঠে আয়োজিত বিশাল নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব বক্তব্য তুলে ধরেন।
তারেক রহমান তার বক্তব্যে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন যে, ১৯৭১ সালের অর্জিত স্বাধীনতাকে এই গণঅভ্যুত্থানই রক্ষা করেছে। তিনি বিশ্বাস করেন, বাংলাদেশের মানুষ এখন এমন এক অর্থবহ পরিবর্তন চায় যেখানে প্রতিটি নাগরিকের উন্নত শিক্ষা ও সুচিকিৎসার অধিকার সুনিশ্চিত হবে। কেবল রাজনৈতিক সমালোচনা করে মানুষের পেট ভরবে না উল্লেখ করে তিনি জানান, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে আনবে এবং কৃষকদের জন্য বিশেষ সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত ‘কৃষক কার্ড’ পৌঁছে দেবে।
চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের প্রধান সমস্যা জলাবদ্ধতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি ঐতিহাসিক খাল কাটা কর্মসূচি পুনরায় চালুর ঘোষণা দেন এবং এ কাজে সরাসরি জনগণের অংশগ্রহণ কামনা করেন। তিনি আরও মনে করিয়ে দেন যে, চট্টগ্রামের বর্তমান ইপিজেড ও কর্মসংস্থানের বড় অংশই বিএনপির আমলে তৈরি হয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জয়ী হলে আরও নতুন ইপিজেড স্থাপনের মাধ্যমে চট্টগ্রামকে প্রকৃত বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে তিনি দুর্নীতি ও নিরাপত্তার বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তারেক রহমান স্পষ্ট জানান যে, আগামীতে সরকার গঠন করলে বিএনপি দুর্নীতির টুটি চেপে ধরবে এবং অতীতে বেগম খালেদা জিয়ার আমলের মতোই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। এমনকি নিজ দলের কেউ অন্যায় করলেও তাকে কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না বলে তিনি অঙ্গীকার করেন।
বক্তব্যের শেষে তিনি গত ১৫ বছরের হারানো ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান। যেকোনো ষড়যন্ত্র রুখে দিতে ভোটের দিন ভোরেই কেন্দ্রে গিয়ে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার জন্য তিনি নেতা-কর্মীদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান। উল্লেখ্য, ২০০৫ সালের পর এটিই তারেক রহমানের প্রথম চট্টগ্রাম সফর। এই মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে পুরো বন্দরনগরী এখন নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা এবং নেতা-কর্মীদের মাঝে বইছে উৎসবের আমেজ। চট্টগ্রাম সফর শেষে তিনি ফেনী, কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন।
প্রদা/ডিও







