দেশে জ্বালানি সংকটের মধ্যে স্বস্তির খবর দিয়েছে বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল)। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে খনন চলা নতুন তিনটি কূপ থেকে আগামী ৬ মাসের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন অন্তত ৪৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের আশা করছে প্রতিষ্ঠানটি।
দেশের প্রাকৃতিক গ্যাসের মোট ২৭ ভাগ উৎপাদন করে বিজিএফসিএল। তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৯, ৩০ ও ৩১ নাম্বার কূপ থেকে নতুন করে এ গ্যাস পাওয়া যাবে। এর মধ্যে ২৯ নাম্বার কূপের খনন শেষ হয়েছে। আগামী ৩ সপ্তাহের মধ্যে এই কূপ থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহের আশা করছে সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া ৩১ নাম্বার কূপের খননকাজও প্রায় শেষপর্যায়ে।
১৯৬২ সালে তৎকালীন পাকিস্তান শেল অয়েল কোম্পানি তিতাস গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করে। এরপর ১৯৬৮ সালে বাণিজ্যিকভাবে গ্যাস উত্তোলন শুরু হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার নন্দনপুর এলাকায় গত ১৯ এপ্রিল ৩১ নাম্বার কূপের খনন শুরু হয়। এটি দেশের প্রথম ও সবচেয়ে গভীর অনুসন্ধান গ্যাস কূপ। দেশের সবচেয়ে উচ্চচাপ ও উচ্চতাপ সম্পন্ন ৩১ নাম্বার কূপটি ৫ হাজার ৬শ মিটার গভীরতায় খনন শুরু হয়। এরই মধ্যে ৪ হাজার ৯২০ মিটার পর্যন্ত খনন শেষ হয়েছে। এই কূপ এলাকায় প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস মজুত থাকার আশা সংশ্লিষ্টদের। চলতি বছরেই কূপটির খনন শেষ করে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন অন্তত ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের আশা করছে বিজিএফসিএল কর্তৃপক্ষ।
বিজিএফসিএল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে উৎপাদনে থাকা তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৩টি কূপ থেকে প্রতিদিন জাতীয় গ্রিডে গড়ে ৩৩১ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যুক্ত হচ্ছে। এর মধ্যে তিতাস ১ নাম্বার কূপটি সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৭৫০ মিটার গভীর পর্যন্ত খনন করা হয়েছিল। এটিই দেশের সবচেয়ে গভীর কূপ। তবে বিদ্যমান কূপগুলোতে গ্যাসের মজুত এবং চাপ কমার ফলে ক্রমশ কমছে উৎপাদন।
উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে ২৯, ৩০ ও ৩১ নাম্বার কূপের খনন প্রকল্প গ্রহণ করে বিজিএফসিএল। ইতোমধ্যে ২৯ নাম্বার কূপের খনন শেষ হয়েছে। শিগগিরই ৩০ নাম্বার কূপের খনন শুরু হবে। আর ৩১ নাম্বার কূপের খনন কাজও চলতি বছরেই শেষ হবে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক।
গভীর অনুসন্ধান গ্যাস কূপ খনন প্রকল্পের পরিচালক মো. মাহমুদুল নবাব বলেন, এরই মধ্যে ২৯ নাম্বার কূপটির খনন শেষ হয়েছে। ২৯ নাম্বার কূপের রিগ দিয়েই ৩০ নাম্বার কূপের খনন শুরু হবে শিগগিরই। আর ৩১ নাম্বার কূপের খনন শেষ হতে আরও তিন মাস লাগবে।
তিনি বলেন, আমরা তিতাসে এ পর্যন্ত ৩ হাজার ৭শ মিটার পর্যন্ত খনন করেছি। এর নিচে কী আছে তা আমরা জানি না। এখন যেহেতু দেশে জ্বালানি সংকট চলছে এবং আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষও চাইছেন গভীরতম স্তরে কী আছে, সেটা বের করার জন্য। এ জন্যই ৩১ নাম্বার কূপটি খনন করা হচ্ছে। আমাদের সার্ভে অনুযায়ী এখানে ২ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস থাকতে পারে।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. আব্দুল জলিল প্রামাণিক বলেন, আমরা আশা করছি আগামী ৬ মাসের মধ্যে নতুন তিনটি কূপের খনন শেষ হবে এবং জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন অন্তত ৪৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা যাবে।
তিনি বলেন, আমাদের চাহিদার তুলনায় এই গ্যাস যে খুব বেশি- সেটা বলা যাবে না। তবে অবশ্যই এটা আমাদের দেশের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আমরা এই পরিমাণ গ্যাস এলএনজি থেকে কাট করতে পারব। তিতাস ছাড়াও বিজিএফসিএল পরিচালিত অন্য গ্যাসক্ষেত্রগুলোতেও নতুন কূপ খনন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। ধীরে ধীরে সেগুলো খনন করা হবে।







