৮.৪২ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সোলার সিস্টেম স্থাপন করতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। এতে বছরে প্রায় ৫ কোটি টাকা হিসাবে ২০ বছরে সাশ্রয় হবে ১০০ কোটি টাকা।
চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজে কনটেইনার ওঠানো-নামানো এবং পরিবহনের কাজে দিন-রাত সচল রয়েছে ১৮টি গ্যান্ট্রি ক্রেনসহ ১০ ধরনের ১৬৯টি বিশেষায়িত ক্রেন। একই সঙ্গে বন্দরের জেটি ও ইয়ার্ডে কাজ করছে ২২ ধরনের আরও ২৭২টি যন্ত্র। এ ছাড়া বন্দরে রয়েছে ৩০ হাজারের বেশি বিভিন্ন ধরনের যানবাহন।
চট্টগ্রাম বন্দরের কার্বন নিঃসরণ বিষয়ক গবেষক ড. মোহাম্মদ আল আমিন বলেন, জাহাজ বন্দরে প্রবেশের পর মূল ইঞ্জিন বন্ধ রেখে সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে জাহাজের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চালানো সম্ভব হলে পুরো বন্দরকে সবুজ বন্দরে রূপান্তর করা যাবে।
বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন ৭ থেকে ১৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহার করে চট্টগ্রাম বন্দর। এ জন্য প্রতি মাসে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডকে (পিডিবি) ৫০ কোটি টাকার বেশি বিল পরিশোধ করতে হয় বলে জানানো হয়েছে।
কার্বন নিঃসরণ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার পাশাপাশি বিদ্যুৎ সংকটের সমাধান করাও বন্দরের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
এ লক্ষ্যে বন্দরের বিভিন্ন শেড ও ভবনের ছাদ এবং পরিত্যক্ত জায়গায় সোলার প্যানেল স্থাপনের জন্য একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করেছে কর্তৃপক্ষ। এসব প্যানেল থেকে দিনে সর্বোচ্চ ৮.৪২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে। একই সময়ে বন্দরের বিদ্যুতের চাহিদা থাকে প্রায় ৭ মেগাওয়াট। চুক্তি অনুযায়ী, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে কিনবে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
চাহিদা মেটানোর পর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে জাতীয় গ্রিডে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সাবেক সদস্য জাফর আলম বলেন, ‘বন্দরে অনেক ছাদ ও শেড রয়েছে। সেগুলো ব্যবহার করে ২০ থেকে ২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব।’






