বিশেষজ্ঞদের মতে, উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের ক্ষেত্রে কৃষিজমি ও সুপেয় পানির উৎস ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। একই সঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষকে স্থানান্তর করতে হলে তাদের জীবিকা ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এ কারণে খনি উন্নয়নের আগে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে আলোচনা, ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের স্বচ্ছ ব্যবস্থা এবং পরিবেশগত ঝুঁকি মূল্যায়ন জরুরি।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ম. তামিম বলেন, কয়লা উত্তোলনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিরপেক্ষ তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে সমীক্ষা করা প্রয়োজন। ঝুঁকি সীমিত এবং তা মোকাবিলা করা সম্ভব হলে উত্তোলনের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। তবে ঝুঁকি বেশি হলে দেশীয় কয়লা উত্তোলনের পরিকল্পনা বাদ দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও ভূতত্ত্ববিদ অধ্যাপক বদরূল ইমাম বলেন, আমদানিনির্ভরতা কমাতে নিজস্ব কয়লা ব্যবহার ইতিবাচক হতে পারে। তবে উত্তোলনের ক্ষেত্রে কৃষিজমি, সুপেয় পানি ও পরিবেশগত জটিলতাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। তার মতে, ভূগর্ভস্থ পদ্ধতিতে সীমিত বা মাঝারি পরিসরে কয়লা উত্তোলনের সম্ভাবনাও যাচাই করা প্রয়োজন।
দেশে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা সাত হাজার মেগাওয়াটের কিছু বেশি। এসব কেন্দ্রে ব্যবহৃত কয়লার প্রায় ৯৫ শতাংশ আমদানি করা হয়। আমদানির প্রধান উৎস ইন্দোনেশিয়া। দেশটিতে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্য কোনো কারণে সরবরাহ বিঘ্নিত হলে বাংলাদেশকে দূরবর্তী দেশ থেকে কয়লা আমদানি করতে হতে পারে। এতে পরিবহন ব্যয় ও সরবরাহের অনিশ্চয়তা বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
নিজস্ব কয়লাসম্পদ ব্যবহারের সম্ভাবনা যাচাইয়ে গত ৪ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে দেশের কয়লা খনিগুলোর সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে একটি উপস্থাপনা দেওয়া হয়েছে। এতে বড়পুকুরিয়া, ফুলবাড়ী ও দিঘিপাড়া খনির পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি জামালগঞ্জ খনির সমীক্ষা পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এসব খনির অগ্রগতি নিয়মিত পর্যালোচনার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
জ্বালানি বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দেশের নিজস্ব কয়লা খনিগুলোর অবস্থা, উত্তোলনের সম্ভাবনা ও আর্থিক সাশ্রয়সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সামনে উপস্থাপনা দেওয়া হয়েছে।
পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মাইনস) প্রকৌশলী মো. শোয়েব বলেন, বর্তমান জ্বালানি সংকটে দেশের নিজস্ব প্রাকৃতিক সম্পদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ ক্ষেত্রে কয়লা বড় বিকল্প হতে পারে। বড়পুকুরিয়া ছাড়াও অন্যান্য সম্ভাব্য কয়লা খনি নিয়ে কাজ করছে পেট্রোবাংলা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশীয় কয়লা উত্তোলনের সম্ভাবনা যাচাই করা প্রয়োজন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অর্থনৈতিক লাভ, পরিবেশগত ঝুঁকি, কৃষিজমি ও পানিসম্পদ সংরক্ষণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন-সব বিষয় সমন্বিতভাবে বিবেচনা করতে হবে।
সূত্র: বণিক বার্তা







