বাংলাদেশে বস্ত্র, ঔষধ, অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, এগ্রি-বিজনেস, তথ্যপ্রযুক্তি, লজিস্টিকস ও ভোগ্যপণ্য খাতে বিপুল বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা দেখছেন স্পেনের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা।
গতকাল বৃহস্পতিবার স্পেনের মাদ্রিদে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ: এ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার ইন দ্য গ্লোবাল ইকোনমি’ শীর্ষক সেমিনারে বাংলাদেশে বাজার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন মাদ্রিদ চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট অ্যাঞ্জেলো আসেন্সিয়ো।
বাংলাদেশকে এশিয়ার অন্যতম উদীয়মান ও গুরুত্বপূর্ণ বাজার হিসেবে তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশটি টেকসই প্রবৃদ্ধি, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাচ্ছে।
তিনি জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম বাণিজ্যিক অংশীদার, ২০২৫ সালে যার বাণিজ্যের আকার ছিল প্রায় ২৩.৩ বিলিয়ন ইউরো।
সেমিনারে বাংলাদেশে সবুজ বিনিয়োগের (গ্রিন ইনভেস্টমেন্ট) সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন অ্যাঞ্জেলো আসেন্সিয়ো। তিনি বলেন, ২০১৮ থেকে ২০৩০ মেয়াদে বাংলাদেশে গ্রিন বিল্ডিং, ট্রান্সপোর্ট, ক্লাইমেট স্মার্ট এগ্রিকালচার, অবকাঠামো এবং বর্জ্যব্যবস্থাপনা খাতে প্রায় ১৭২ বিলিয়ন ডলারের ‘গ্রিন ইনভেস্টমেন্টে’র সুযোগ রয়েছে।
রপ্তানি বহুমুখীকরণকে বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ এবং সম্ভাবনা হিসেবেও উল্লেখ করেন মাদ্রিদ চেম্বারের প্রেসিডেন্ট।
এ সময় ইউরোপের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান এফবিসিসিআই’র প্রশাসক মো. ফজলুল হক।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার বৈদেশিক বিনিয়োগকে উৎসাহিত করছে। বিশেষ করে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, লজিস্টিকস, অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগকারীদের বিনামূল্যে জমি প্রদানের মতো বড় সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে থেকে সরকার নির্দিষ্ট মূল্যে বিদ্যুৎ ক্রয় করতে পারবে। বাংলাদেশে ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে কিছু চ্যালেঞ্জ থাকলেও সেখানে বিনিয়োগ করে লাভের সুযোগ ও সম্ভাবনাও অনেক বেশি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি মাদ্রিদ চেম্বার অব কমার্সের একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতে মাদ্রিদ চেম্বারের প্রেসিডেন্ট জানান, আগামী নভেম্বর নাগাদ একটি উচ্চপর্যায়ের ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের বাংলাদেশ সফরের পরিকল্পনা রয়েছে।
মাদ্রিদ চেম্বার অব কমার্স আয়োজিত সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন স্পেনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. মাসুদুর রহমান। এতে প্যানেল আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইউরোচ্যাম বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট নুরিয়া লোপেজ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরামর্শক পাবলো আরাউজো, মলিন্স-এর এশিয়া ও আফ্রিকার নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট তারেক এলবা এবং রিকভার-এর সাস্টেইনেবিলিটি বিভাগের গ্লোবাল ডিরেক্টর আনা রোডেস।
সেমিনারে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে বাংলাদেশে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্ভাবনার চিত্র তুলে ধরেন ইনভেস্ট বাংলাদেশের সদস্য নাহিয়ান রহমান রোচি এবং বাংলাদেশ রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো’র (ইপিবি) ভাইস-চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাসান আরিফ।
উল্লেখ্য, ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সাথে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি, শিল্প-সংযোগ স্থাপন এবং সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণের লক্ষ্যে গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ১১ দিনের সফরে ইউরোপ গেছে এফবিসিসিআই’র একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল। ২৬ সদস্যের এই প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে রয়েছেন এফবিসিসিআই’র প্রশাসক মো. ফজলুল হক।






