দেশটির দৈনিক জ্বালানি তেল উত্তোলন নেমে এসেছে ৬২ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেলে, যা ১৯৯০ সালের পর সর্বনিম্ন।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানি সরবরাহে তীব্র অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এর প্রভাবে সৌদি আরবে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন গত আগস্টে প্রায় ২৩ শতাংশ কমেছে। দেশটির দৈনিক জ্বালানি তেল উত্তোলন নেমে এসেছে ৬২ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেলে, যা ১৯৯০ সালের পর সর্বনিম্ন। খবর আনাদোলু এজেন্সি।
গত শুক্রবার প্রকাশিত পেট্রোলিয়াম রফতানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ওপেকের প্রতিবেদনে এ তথ্য পাওয়া গেছে। সৌদি আরব সরাসরি ওপেককে জানিয়েছে, জুলাইয়ে দেশটির দৈনিক অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন ছিল ৮১ লাখ ব্যারেল। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে উত্তোলন কমেছে প্রায় ১৯ লাখ ব্যারেল।
জুনে সৌদি আরবের দৈনিক জ্বালানি তেল উত্তোলনের পরিমাণ ছিল ৭১ লাখ ব্যারেল। জুলাইয়ে তা দ্রুত বেড়ে ৮১ লাখ ব্যারেলে উঠেছিল। কিন্তু আগস্টে সে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা সম্ভব হয়নি।
আগস্টে সৌদি আরবসহ ওপেক প্লাসের অন্য সদস্যদেশগুলোর তেল উত্তোলন বাড়ানোর পরিকল্পনা ছিল। তবে যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি তেল সরবরাহ ও পরিবহন ব্যবস্থা ব্যাহত হয়। ফলে সৌদির তেল উত্তোলন কমে যায়
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধের প্রভাব এখন সরাসরি সংঘাতের এলাকার বাইরেও পড়ছে। পারস্য উপসাগর ও লোহিত সাগর—দুই পথেই জ্বালানি তেল পরিবহনে ঝুঁকি বেড়েছে।
হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতার কারণে সৌদি আরব পশ্চিমাঞ্চলের জ্বালানি তেল রফতানি অবকাঠামোর ওপর বেশি নির্ভর করছে। এর মধ্যে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দর গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে এ পথও এখন ঝুঁকির মুখে।
ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী গত ২০ জুলাই সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সমুদ্রপথে অবরোধ ঘোষণা করে। তারা এটিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের নতুন একটি অংশ হিসেবে বর্ণনা করে। পরে গোষ্ঠীটি সৌদিসংশ্লিষ্ট জাহাজ ও জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার দাবি করে।
এ পরিস্থিতিতে অনেক তেলবাহী জাহাজ ঝুঁকি কমাতে তাদের স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ ব্যবস্থা বা অটোমেটিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম (এআইএস) বন্ধ করে দিচ্ছে। জাহাজ চলাচলের তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলার ও ভর্টেক্সার তথ্যানুযায়ী, গত আগস্টে ইয়ানবু বন্দর থেকে সৌদি অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ও কনডেনসেটের রফতানি ছয় মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে।
এদিকে হরমুজ প্রণালিতেও জাহাজ চলাচল কমেছে। গত বুধবার সেখানে মাত্র সাতটি জাহাজ চলাচল করেছে। আগের ১০ দিনের গড় ছিল ১৪টি।
তবে উত্তোলন কমলেও আগস্টে সৌদি আরব বাজারে দৈনিক ৭১ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেল সরবরাহ করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় চলতি সপ্তাহে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্টের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠেছে।






