চট্টগ্রাম নগরের নাসিরাবাদ এলাকায় বাসার সামনে অটোরিকশার ধাক্কায় তৃতীয় শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী গুরুতর আহত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আহত শিশুটির নাম নাওয়াল আনসারী। সে নাসিরাবাদ ইস্পাহানী পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী।
শিশুটির বাবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেন, ঘটনার দিন সকালে তিনি নিজেই মেয়েকে স্কুলে দিয়ে আসেন। পরে বেলা আনুমানিক সাড়ে ১টার দিকে ট্যাক্সিযোগে স্কুল থেকে বাসার প্রধান ফটকের সামনে পৌঁছায় নাওয়াল। গাড়ি থেকে নামার সময় দ্রুতগতির একটি বিদ্যুৎচালিত অটোরিকশা এসে তাকে ধাক্কা দেয়।
বাবার দাবি, ধাক্কায় নাওয়াল ছিটকে রাস্তায় পড়ে যায়। এতে তার দুই হাত, মাথা, ঠোঁট, মুখমণ্ডল ও কপালে গুরুতর কাটা-ছেঁড়া ও রক্তাক্ত জখম হয়। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে প্রথমে রয়েল হাসপাতাল এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য মেট্রোপলিটন হাসপাতালে নেওয়া হয়।
ঘটনার পর ক্ষোভ প্রকাশ করে নাওয়ালের বাবা বলেন, তাঁর মেয়ে কোনো অপরাধ করেনি। নিজের বাসার সামনেও যদি একটি শিশু নিরাপদ না থাকে, তাহলে দেশের অন্য কোথাও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে তিনি আরও অভিযোগ করেন, দুর্ঘটনার জন্য দায়ী অটোরিকশাটি অবৈধ ও রেজিস্ট্রেশনবিহীন এবং চালকের প্রশিক্ষণ ও ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিল না। এ ধরনের যানবাহন ও চালকদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন প্রয়োগ না হওয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগের বিধান থাকলেও প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্সবিহীন অটোরিকশা চালকদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে এ ধরনের দুর্ঘটনা আরও ঘটতে পারে। কত মানুষের প্রাণহানি বা কত শিশুর রক্তে সড়ক রঞ্জিত হলে এ বিষয়ে কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে—এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি।
এ বিষয়ে তিনি সরকারের নীতিনির্ধারকদের পাশাপাশি সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। অবৈধ অটোরিকশা ও প্রশিক্ষণবিহীন চালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে সড়কে শিশু ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
তবে দুর্ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অটোরিকশাচালক বা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।






