দেশের বাজারে সুগন্ধি চালের চাহিদা ও দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় রপ্তানিতে নিয়ন্ত্রণ কঠোর করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
আগে অনুমোদন দেওয়া রপ্তানি কোটা পুনর্বিবেচনা করে তা কমানো বা সমন্বয়ের উদ্যোগ নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
এ লক্ষ্যে সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমতি পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো প্রকৃতপক্ষে কী পরিমাণ চাল রপ্তানি করেছে, সে তথ্য আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে জমা দিতে বলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি-২ শাখা থেকে জারি করা এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
গত দুই মাসে চিনিগুড়াসহ বিভিন্ন ধরনের সুগন্ধি চালের দাম কেজিপ্রতি প্রায় ১৩০ টাকা থেকে বেড়ে ২৩০ টাকা হয়েছে।
খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, অনেক দোকানে সুগন্ধি চালের সরবরাহও কমে গেছে। এ অবস্থায় সুগন্ধি চাল রপ্তানিতে আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের উদ্যোগ নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
নির্দেশনায় মন্ত্রণালয় বলেছে, সুগন্ধি চালের বর্তমান বাজার পরিস্থিতি ও অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আগে অনুমোদন দেওয়া রপ্তানির পরিমাণ কমানো বা সমন্বয় করা প্রয়োজন।
এ কারণে অনুমোদন পাওয়া রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে তাদের প্রকৃত রপ্তানি পরিমাণের বিস্তারিত তথ্য জমা দিতে বলা হয়েছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. কামাল হোসেন বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠান অনুমোদিত পুরো পরিমাণ রপ্তানি করতে পারেনি বা আংশিক রপ্তানি করেছে, মূলত সেসব প্রতিষ্ঠানের অব্যবহৃত কোটা পুনর্বিবেচনার আওতায় আসতে পারে।
এর আগে ২ আগস্ট বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সুগন্ধি চালের বাজার পরিস্থিতি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে চালের উৎপাদন, অভ্যন্তরীণ চাহিদা, বাজার পরিস্থিতি ও রপ্তানির প্রকৃত চিত্র পর্যালোচনা করা হয়।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সুপারিশের ভিত্তিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় প্রথম দফায় ১৩ মে ২১১টি এবং দ্বিতীয় দফায় আরও ৬৭টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৪৫ হাজার ২৭০ টন সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমতি দেয়।
তবে অনুমোদন পাওয়া অনেক প্রতিষ্ঠানই তাদের কোটার আওতায় বরাদ্দ করা পুরো পরিমাণ চাল রপ্তানি করতে পারেনি।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের ১০টি বড় চালকলের মালিক বিপুল পরিমাণ সুগন্ধি চাল মজুত করে রেখেছেন বলে ব্যবসায়ীরা দাবি করেছেন।
তাদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত চাল বাজারে না ছাড়ায় কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে এবং এর ফলে চালের দাম বেড়েছে।







