চট্টগ্রামে চলমান গ্যাস সংকটের কোনো স্থায়ী সমাধান এখনও হয়নি। পর্যাপ্ত গ্যাস না পাওয়ায় নগরের বিভিন্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ হচ্ছে যানবাহনের সারি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও প্রয়োজনীয় গ্যাস না পাওয়ায় অনেক সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও গণপরিবহন সড়কে নামতে পারছে না।
সিএনজি অটোরিকশাচালক জসিম উদ্দিন বলেন, পুরো রাত লাইনে থাকার পর সকালে মাত্র ২০০ টাকার মতো গ্যাস পেয়েছেন। তার প্রশ্ন, পর্যাপ্ত গ্যাস না পেলে গাড়ি চালিয়ে মালিকের জমা ও নিজের সংসারের খরচ কীভাবে চালাবেন।
বাড়তি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে সামান্য গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। সেই গ্যাস দিয়ে কোনোভাবে গাড়ি চালাতে হচ্ছে। বাড়তি ভাড়া না নিলে দিন শেষে আয় খুবই কম থাকে।
গ্যাসের স্বল্পতার কারণে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও বাসের উল্লেখযোগ্য অংশ রাস্তায় নামতে না পারায় সকাল থেকেই নগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে যাত্রীদের দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে দেখা গেছে।
অক্সিজেন থেকে নিউমার্কেটগামী এক যাত্রী জানান, স্বাভাবিক দিনে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলেই অটোরিকশা পাওয়া যায়। কিন্তু গ্যাস সংকটের কারণে এক ঘণ্টার বেশি অপেক্ষা করেও খালি গাড়ি পাননি। এতে কর্মস্থলে পৌঁছাতেও তার দেরি হয়েছে।
যাত্রীরা বলছেন, সংকটের সুযোগ নিয়ে অনেক অটোরিকশা চালক মিটারে যাতায়াত করছেন না। যেসব গাড়ি পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলোর চালকেরা চুক্তিতে অস্বাভাবিক ভাড়া চাইছেন।
স্বাভাবিক সময়ে যে দূরত্বে নির্দিষ্ট ভাড়ায় যাতায়াত করা যায়, বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে তার দ্বিগুণ ভাড়া দাবি করা হচ্ছে। কোনো কোনো রুটে তিন গুণ পর্যন্ত ভাড়া চাওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
যাত্রীদের অভিযোগ, নগরে পর্যাপ্ত গণপরিবহন না থাকায় বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় তারা বাড়তি ভাড়া দিতে বাধ্য হচ্ছেন।
পরিবহন খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের দাবি, নিয়মিত গ্যাস সরবরাহ না থাকায় সিএনজিচালিত যানবাহনের বড় একটি অংশ প্রতিদিন রাস্তায় নামতে পারছে না।
এর ফলে একদিকে চালকদের আয় কমছে, অন্যদিকে গাড়ির মালিকেরাও ক্ষতির মুখে পড়ছেন। গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি না হলে নগরের গণপরিবহন ব্যবস্থায় সংকট আরও তীব্র হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
চলমান সংকটে নগরের বিভিন্ন এলাকায় দিনের অধিকাংশ সময় গ্যাসের চাপ না থাকায় রান্না করতে পারছেন না বাসিন্দারা। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে হোটেলের খাবারের ওপর নির্ভর করছেন, আবার কেউ গভীর রাত বা ভোরে গ্যাস এলে রান্না করে রাখছেন। শুধু বাসাবাড়িই নয়, ছোট ব্যবসা ও শিল্পকারখানার কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।
কক্সবাজারের মহেশখালীতে ২১ জুলাই একসিলারেট এনার্জি পরিচালিত একটি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। আরেকটি টার্মিনাল থেকে সরবরাহের কাজ চললেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। কেজিডিসিএল সূত্রে জানা গেছে, ৩৫ কোটি ঘনফুট চাহিদার বিপরীতে রোববার ১৯ কোটি ঘনফুট গ্যাস পাওয়া গেছে। যার প্রভাব পড়েছে আবাসিক গ্রাহক, শিল্পকারখানা এবং সিএনজি ফিলিং স্টেশনে।







