নগরের কোতোয়ালী থানাধীন কাজীর দেউরী এলাকায় ‘হানি ট্র্যাপ’ কৌশলে এক ব্যক্তিকে অপহরণ, নির্যাতন ও চাঁদা আদায়ের অভিযোগে দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)।
সিএমপির কোতোয়ালী থানা পুলিশ জানায়, গত ২২ জুলাই ভুক্তভোগী মো. আনোয়ার হোসেন বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করতে কাজীর দেউরী মোড়ে যান। সেখানে চা পান করার সময় নুসরাত ফারিয়া নামে এক তরুণী পরিচয়ের সূত্র ধরে তাকে ফাঁদে ফেলে। পরে চক্রের সদস্যরা তাকে অপহরণ করে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যায়।
অভিযোগে বলা হয়, সেখানে ভুক্তভোগীকে আটকে রেখে বিবস্ত্র করে ছবি ধারণ করা হয় এবং সেসব ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। একপর্যায়ে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে তার কাছ থেকে ৭ হাজার টাকা আদায় করা হয়। এছাড়া তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়। পরে একটি গলিতে ফেলে রেখে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কোতোয়ালী থানায় অভিযোগ দায়ের করলে ২৫ জুলাই কোতোয়ালী থানার মামলা নং-৩৯ হিসেবে দণ্ডবিধির ৩৪২, ৩২৩, ৩৬৫, ৩৮৫, ৩৮৬, ৫০৬ ও ৩৪ ধারায় মামলা রুজু করা হয়।
মামলার পর কোতোয়ালী থানার একটি বিশেষ অভিযানিক দল অভিযান চালিয়ে ভুক্তভোগীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মোবারক হোসেন (২৬) ও নুসরাত ফারিয়া (২০)-কে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুই আসামি পরস্পরের যোগসাজশে সাধারণ মানুষের সরলতার সুযোগ নিয়ে ‘হানি ট্র্যাপ’-এর মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়ের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।
পরে গ্রেপ্তার আসামি মোবারক হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে একটি স্মার্টফোন, ভুক্তভোগীর মোটরসাইকেলের চাবি এবং হাত বাঁধার কাজে ব্যবহৃত একটি রশি উদ্ধার করে জব্দ করা হয়।
সিএমপি জানায়, এ ঘটনায় জড়িত পলাতক অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা যায়, গ্রেপ্তার মোবারক হোসেনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মারামারি, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে পাঁচটি মামলা রয়েছে।







