দেশের পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় চলতি মৌসুমের নতুন পাট বাজারে আসতে শুরু করেছে। মৌসুমের শুরুতে পাটের দাম তুলনামূলক বেশি থাকায় কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি দেখা দিয়েছে। তবে শ্রমিকের মজুরি ও উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় লাভের একটি বড় অংশ খরচেই চলে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন তারা।
কৃষি সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, যশোর, ঝিনাইদহ, মাগুরা, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর জেলায় এবার উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। মৌসুমের শুরুতে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় অনেক কৃষককে সেচের মাধ্যমে বীজ বপন করতে হয়েছে। এতে উৎপাদন ব্যয় কিছুটা বেড়ে যায়। পরে বৃষ্টিপাত স্বাভাবিক হওয়ায় পাটের বৃদ্ধি ভালো হয় এবং জাগ দেওয়ার ক্ষেত্রেও বড় ধরনের সমস্যা দেখা দেয়নি।
জুনের মাঝামাঝি সময় থেকে পাট কাটা শুরু হয়। মাসের শেষ দিক থেকে বিভিন্ন আঞ্চলিক হাট ও মোকামে নতুন পাট বিক্রি শুরু হলে প্রথমদিকে প্রতি মণ ৪ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত দাম পাওয়া যায়। বর্তমানে বাজারে সরবরাহ বাড়ায় সেই দাম কিছুটা কমে ৪ হাজার ২০০ থেকে ৪ হাজার ৪০০ টাকার মধ্যে লেনদেন হচ্ছে।
ঝিনাইদহ, মাগুরা, যশোর, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন হাটে এখন নিয়মিত পাট কেনাবেচা চলছে। এসব এলাকার বড় মোকামগুলোতে স্থানীয় কৃষকের পাশাপাশি আশপাশের জেলার চাষিরাও পাট নিয়ে আসছেন।
ঝিনাইদহের একাধিক কৃষক জানান, প্রতি বিঘায় গড়ে ১০ থেকে ১১ মণ পর্যন্ত ফলন মিলছে। বর্তমান বাজারদরে পাট বিক্রি করে ভালো মূল্য পাওয়া গেলেও কাটাই, জাগ দেওয়া, ধোয়া, শুকানো এবং পরিবহনে অতিরিক্ত শ্রমিক ব্যয় হওয়ায় মোট উৎপাদন খরচ বেড়েছে।
মেহেরপুরের এক কৃষক বলেন, এ বছর পাটের মান ভালো হয়েছে। যদিও বাজারে এখনো পুরোপুরি কেনাবেচা শুরু না হওয়ায় অনেকেই আরও ভালো দামের আশায় পাট ধরে রেখেছেন।
ব্যবসায়ীরা জানান, বর্তমানে স্থানীয় হাট থেকে পাট সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন ছোট ও মাঝারি পাটকলের কাছে সরবরাহ করা হচ্ছে। বিশেষ করে গড়াই নদীসংলগ্ন এলাকার উৎপাদিত সোনালি রঙের উন্নতমানের পাটের বাজার চাহিদা বেশি থাকায় এসব পাট তুলনামূলক উচ্চ দামে বিক্রি হচ্ছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় পাটের ফলন সন্তোষজনক হয়েছে। বাজারে দামও কৃষকদের জন্য উৎসাহব্যঞ্জক। তবে উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখা গেলে কৃষকের লাভ আরও বাড়বে।
এই মৌসুমে পশ্চিমাঞ্চলের ছয় জেলায় মোট প্রায় দেড় লাখ হেক্টরেরও বেশি জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে বলে কৃষি বিভাগের তথ্য থেকে জানা গেছে। ফলে সামনের সপ্তাহগুলোতে বাজারে নতুন পাটের সরবরাহ আরও বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।







