সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সরকার ৪ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সমপরিমাণ বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করেছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
রোববার (১২ জুলাই) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর এক প্রশ্নের উত্তরে অর্থমন্ত্রী এ তথ্য জানান। এসময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম অধিবেশনের সভাপতিত্ব করেন।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সরকার ৪ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সমপরিমাণ বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করেছে, যার মধ্যে আসল বাবদ পরিশোধ করা হয়েছে ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ও সুদ বাবদ ১ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে বাংলাদেশকে একটি ঋণ নির্ভর অর্থনীতি থেকে বিনিয়োগ নির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তর করার অঙ্গীকার ছিল। এ লক্ষ্যে সরকার গঠনের পর থেকেই বৈদেশিক ঋণ সহনশীল মাত্রায় রাখতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বৈদেশিক ঋণে বাস্তবায়নের জন্য কোনো নতুন প্রকল্প গ্রহণের আগে এসব প্রকল্প প্রস্তাব ও সংশ্লিষ্ট ঋণ প্রস্তাব পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা হচ্ছে, যেন বৈদেশিক ঋণে নতুন কোনো অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণ না করা হয়। একইসঙ্গে বৈদেশিক ঋণের প্রকল্পগুলো যাতে ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনর্গঠন ও পুনরুদ্ধারে সরকারের লক্ষ্যে ও উদ্দেশ্যের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ হয় এবং নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় সে বিষয়ে লক্ষ্য রাখা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, বিশেষ করে উচ্চ সুদের ও স্বল্পমেয়াদি অনমনীয় শর্তের বৈদেশিক ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। এ ধরনের প্রতিটি ঋণ অনুমোদনের আগে কমিটি গঠনের মাধ্যমে বিশেষভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ইতোমধ্যে নেওয়া ঋণের পরিশোধসূচি অনুযায়ী নিয়মিত ঋণ পরিশোধ নিশ্চিত করার জন্য বাজেটে পর্যাপ্ত সম্পদের জোগান রাখা হচ্ছে। আমরা সরকারের মধ্যমেয়াদি ঋণ ব্যবস্থাপনা নীতি (Medium Term Debt Management Strategy) হালনাগাদ করার কাজ করছি। ঋণ ব্যবস্থাপনাকে টেকসই ও সহনশীল করার লক্ষ্যে আমরা Debt Sustainability Analysis (DSA) করছি। সরকারের ঋণ ব্যবস্থাপনার সার্বিক গুণগতমান উন্নয়নের জন্য আমরা শিগগিরই প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি সংস্কারের জন্য একটি পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ শুরু করেছি।






