চীনের পশ্চিমাঞ্চলীয় গানসু প্রদেশে ভয়াবহ একটি ভূমিধসে অন্তত ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। ভারী বৃষ্টি ও ঝড়ের চরম আবহাওয়া সংকটের মুখে, এশিয়ার এই দেশটিতে আজ বুধবার সকাল পর্যন্ত বিভিন্ন অঞ্চলে কয়েক ডজন মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। কর্তৃপক্ষকে লাখ লাখ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হয়েছে।
ভারী বৃষ্টির মধ্যে গতকাল মঙ্গলবার তানচাং কাউন্টির একটি উপত্যকায় এই ভূমিধসের ঘটনা ঘটে, মাটি ও ধ্বংসাবশেষের নিচে ৩৩ জন আটকা পড়েন। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই ছিলেন স্থানীয় গ্রামবাসী, যারা একটি সরকারি বনায়ন খামারে অস্থায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। বর্ষা মৌসুমে খাড়া উপত্যকা ও জালের মতো ছড়িয়ে থাকা নদীবেষ্টিত এই পার্বত্য অঞ্চলটি আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ থাকে।
সেখানে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান ইতোমধ্যেই শেষ হয়েছে বলে বুধবার জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া।
তানচাং কাউন্টির এই হতাহতের ঘটনা মধ্য ও দক্ষিণ চীনজুড়ে ভিন্ন ভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে মৃত্যুর মিছিলে যুক্ত হলো। চলতি বছরে দেশটিতে আঘাত হানা প্রথম টাইফুন বা ঘুর্ণিঝড় মেসাক-এর তাণ্ডবে দক্ষিণাঞ্চলীয় গুয়াংশি অঞ্চলে অন্তত ৬ জন মারা গেছে, আর প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া এই ঝড়ে আরও ১১ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
একটি জলাধারের বাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর আঞ্চলিক রাজধানী নানিং-এ বন্যা নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত জরুরি সতর্কতা সর্বোচ্চ স্তরে উন্নীত করেছে কর্তৃপক্ষ। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভির শেয়ার করা একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, ভেঙে পড়া কংক্রিটের দেয়াল উপচে কাদার তোড় তীব্র বেগে ধেয়ে আসছে।
সিনহুয়ার তথ্য অনুযায়ী, দেশটির মধ্যাঞ্চলীয় হুবেই প্রদেশে বজ্রঝড় ও প্রবল বাতাসের কারণে আরও ১১ জন নিহত এবং ৩৩০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। এ ছাড়া ঝড়ে প্রায় ৫ হাজার ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ২২টি ঘর সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে।
এই পরিস্থিতিতে, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং উপদ্রুত এলাকাগুলোতে ‘সর্বাত্মক’ উদ্ধারকাজের নির্দেশ দিয়েছেন। দেশটির পানিসম্পদ মন্ত্রী লি গুয়োয়িং সতর্ক করে বলেছেন, গুয়াংশির উপকূলীয় ও পূর্বাঞ্চলীয় এলাকার পাশাপাশি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় গুয়াংডং প্রদেশে আরও ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
লি গুয়োয়িং বলেন, “টানা ভারী বর্ষণ এবং দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ স্তরে বন্যা পরিস্থিতি বিরাজ করার কারণে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার জলাধার ও বাঁধগুলোর নিরাপত্তা এখন এক চরম পরীক্ষার মুখে পড়েছে।”
এর মধ্যেই চীন আরেকটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ ‘সুপার টাইফুন বাভি’ মোকাবিলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বীপ রোটাতে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২৮৯ কিলোমিটার বেগে আঘাত হেনে ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে এই সুপার টাইফুন।
আগামী শুক্রবার নাগাদ এই ঝড়টি তাইওয়ানে আঘাত হানতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাইওয়ানের আবহাওয়া অধিদপ্তর সতর্ক করে বলেছে, এর প্রভাবে কিছু কিছু এলাকায় এক মিটারেরও বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সহায়তার জন্য তাইওয়ান তাদের প্রায় ২৯ হাজার সেনা সদস্য প্রস্তুত রেখেছে।
চীনে গ্রীষ্মকালে, বিশেষত মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোতে নিয়মিতই ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়। এর আগে গত মে মাসে দেশটির মধ্য ও দক্ষিণ অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে অন্তত ২২ জনের প্রাণহানি হয়েছিল।
এর আগে ১৯৯৮ সালে ইয়াংজি নদীর অববাহিকায় স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় প্রায় ২ হাজার মানুষের মৃত্যু হয় এবং প্রায় ৩০ লাখ ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছিল।







