মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনাল এ রায় ঘোষণা করেন। এর আগে গত ২২ জুন রায় ঘোষণার জন্য ৩০ জুন দিন ধার্য করেছিলেন আদালত।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। আসামিপক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় বিভিন্ন বক্তব্য, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আন্দোলন দমনে উসকানি, প্ররোচনা ও সহায়তা দিয়েছিলেন হাসানুল হক ইনু। আন্দোলনকারীদের বিএনপি-জামায়াত, সন্ত্রাসী ও সাম্প্রদায়িক হিসেবে আখ্যায়িত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষে তিনি প্রকাশ্যে অবস্থান নেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, আন্দোলন চলাকালে তৎকালীন সরকারের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিয়ে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণে ভূমিকা রাখেন ইনু। এছাড়া কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারের সঙ্গে যোগাযোগ করে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন বলেও অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগে আরও বলা হয়, সরকারপ্রধানের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখে আন্দোলন দমনে বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়নে তিনি সহায়তা ও সমর্থন দিয়েছিলেন।
মামলার তদন্তে ইনুর বিরুদ্ধে আটটি অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগপত্রের সঙ্গে ১ হাজার ৬৭৯ পৃষ্ঠার নথি, তিনটি অডিও এবং ছয়টি ভিডিও দলিল ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হয়।
প্রসিকিউশনের দাবি, কুষ্টিয়ায় আন্দোলন চলাকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ক্ষমতাসীন জোটের নেতাকর্মীদের গুলিতে ছয়জন নিহত হন এবং বহু মানুষ আহত ও নির্যাতনের শিকার হন। এসব ঘটনায় ইনুর নির্দেশনা, প্ররোচনা ও সহায়তার বিষয়টি তদন্তে উঠে এসেছে বলে রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে দাবি করে।
উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ অভিযোগের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করে হাসানুল হক ইনুকে দোষী সাব্যস্ত করেন এবং তাকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন।







