তবে সবচেয়ে বেশি চাপ তৈরি হয়েছে দামে। বাংলাদেশি পোশাকের গড় ইউনিট মূল্য জানুয়ারি-এপ্রিল সময়ে প্রতি কেজিতে ১৫ দশমিক ৫৯ ইউরো থেকে কমে ১৩ দশমিক ৯৬ ইউরোতে নেমেছে। ফলে ইউনিট মূল্যে পতন হয়েছে ১০ দশমিক ৪৫ শতাংশ। একই সময়ে চীনের ইউনিট মূল্য ৭ দশমিক ৭০ শতাংশ কমলেও ভিয়েতনামের ইউনিট মূল্য ৬ দশমিক ৯০ শতাংশ বেড়েছে।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ইইউ বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগী দেশগুলোর মধ্যে ভিয়েতনাম প্রায় স্থিতিশীল অবস্থানে রয়েছে। জানুয়ারি-এপ্রিল সময়ে দেশটির রপ্তানি মূল্য মাত্র শূন্য দশমিক ৭০ শতাংশ কমেছে। অন্যদিকে পাকিস্তানের রপ্তানি মূল্য ১৭ দশমিক ৯৪ শতাংশ এবং তুরস্কের ১৬ দশমিক ৬০ শতাংশ কমেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি গন্তব্য ইইউ বাজারে এ ধরনের দ্বিগুণ হারে পতন দেশের পোশাক শিল্পের জন্য সতর্কবার্তা। বিশেষ করে মূল্যহ্রাস, ক্রেতাদের ব্যয়সংকোচন এবং প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় দুর্বল বাজার পারফরম্যান্স আগামী মাসগুলোতে রপ্তানি খাতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির জন্য সবচেয়ে বড় বাজার। বড় এ বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে চারটি চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান। আর যে কারণে তৈরি পোশাক রপ্তানি বিপর্যয় বলে মন্তব্য করেছেন পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি বিজিএমইএ’র সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল।
তিনি বাংলানিউজকে বলেন, প্রথমত ইউরোপের অর্থনৈতিক মন্দা: বর্তমানে পুরো ইউরোপে অর্থনৈতিক মন্দা এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতি চলছে। এর ফলে সেখানকার মানুষের পোশাক কেনার গড় খরচ কমে গেছে এবং ইউরোপের সামগ্রিক আমদানি প্রায় ১০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এটি বাংলাদেশের পোশাক খাতের জন্য একটি বড় ধাক্কা।
দ্বিতীয়ত, চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতা: চীন বর্তমানে অত্যন্ত আগ্রাসীভাবে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার চেষ্টা করছে। চীনের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত এবং তাদের লিড টাইম (পণ্য পৌঁছানোর সময়) অনেক কম। এই সুযোগ-সুবিধাগুলো বাংলাদেশের তুলনায় বেশি হওয়ায় বায়াররা চীনের দিকে বেশি ঝুঁকছে, যা বাংলাদেশের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।
তৃতীয়ত, এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন নিয়ে অনিশ্চয়তা: এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) থেকে উত্তরণের বিষয়টি নিয়ে বায়ারদের মধ্যে এক ধরনের সংশয় বা ধোঁয়াশা কাজ করছে। এর ফলে তারা ঝুঁকি কমাতে অনেক সময় অন্য দেশগুলোকে বিকল্প হিসেবে বেছে নিচ্ছে। মহিউদ্দিন রুবেলের মতে, এই বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে গেলে বায়াররা আবার ফিরে আসবে।
এবং চতুর্থত, অভ্যন্তরীণ সমস্যা ও অবকাঠামো: বাংলাদেশের পোশাক খাতে কিছু অভ্যন্তরীণ বটলনেক বা প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। তিনি মনে করেন, নতুন সরকার যেভাবে কাজ শুরু করেছে এবং অভ্যন্তরীণ অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধা যদি আরও উন্নত করা সম্ভব হয়, তবে বাংলাদেশ অবশ্যই এই সংকট কাটিয়ে উঠতে পারবে।
বৈশ্বিক মন্দা, চীনের সঙ্গে তীব্র প্রতিযোগিতা এবং অভ্যন্তরীণ অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে বর্তমানে পোশাক রপ্তানিতে কিছুটা নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে মনে করেন বিজিএমইএর সাবেক এই পরিচালক।






