গত সোমবার (২২ জুন) দুপুরে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালের (এনসিটি) ৪ নম্বর বার্থে একটি রাবার গ্যান্ট্রি ক্রেনে হঠাৎ আগুন লাগে। বন্দরের নিজস্ব ফায়ার সার্ভিস ও নৌবাহিনীর তৎপরতায় আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে এর আগেই কয়েকটি কনটেইনার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর মধ্যে একটি কনটেইনারে থাকা আমদানি করা ফ্রিজ পুড়ে যায়। প্রায় এক বছর আগে আমদানি করা এসব ফ্রিজ ডেলিভারি না হওয়ায় সেগুলো নিলামের অপেক্ষায় ছিল।
যদিও এ আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে এনে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো গেছে, তবুও বিভিন্ন শেড ও ইয়ার্ডে পড়ে থাকা কেমিক্যাল এবং ধ্বংসযোগ্য বিপজ্জনক পণ্যবোঝাই কনটেইনার বন্দরের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (হারবার অ্যান্ড মেরিন) কমোডর আমিন আহমেদ আবদুল্লাহ বলেন, অনেক ক্ষেত্রে কনটেইনার দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় সেগুলোতে লিকেজ দেখা দেয়। এতে ভেতরে থাকা রাসায়নিক পদার্থের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য পরিবর্তিত হতে পারে। তাই এসব ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কাস্টম কমিশনারের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমানে শুধু পি-শেডেই ৩০২ প্যাকেজ কেমিক্যাল ও বিপজ্জনক পণ্য রয়েছে। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা নিলাম ও ধ্বংসযোগ্য কেমিক্যাল রয়েছে আরও ১২২ প্যাকেজ।
এর বাইরে বিভিন্ন ইয়ার্ডে ধ্বংসের অপেক্ষায় থাকা অতি বিপজ্জনক পণ্যবোঝাই ৩৩১ টিইইউএস কনটেইনারের মধ্যে ৪২টি কনটেইনার জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, শুল্ক ফাঁকি দেয়ার উদ্দেশ্যে মিথ্যা ঘোষণার মাধ্যমে কেমিক্যাল আমদানি করায় এ ধরনের জটিলতার সৃষ্টি হচ্ছে।
চট্টগ্রাম কাস্টম বিডার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. এয়াকুব চৌধুরী বলেন, অনেক সময় ঘোষণাপত্রে টেক্সটাইল কেমিক্যাল উল্লেখ করা হলেও বাস্তবে দেখা যায় তা বিস্ফোরক কেমিক্যাল। কাস্টমস ইনভেন্টরি করার সময় পণ্যের সঙ্গে ঘোষণার মিল পাওয়া যায় না।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজ একাধিকবার চেষ্টা করলেও উচ্চ আদালতে মামলা বিচারাধীন থাকাসহ নানা জটিলতায় বিপজ্জনক এসব কেমিক্যাল নিলামে বিক্রি কিংবা ধ্বংস করা সম্ভব হয়নি। তবে সম্প্রতি এসব কেমিক্যাল ধ্বংসে তৃতীয় পক্ষের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কাস্টম হাউজ। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়ার পর চুক্তি সম্পন্ন হলে ওই প্রতিষ্ঠানের কারখানায় এসব কেমিক্যাল ধ্বংস করা হবে।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের সহকারী কমিশনার শরীফ মো. আল আমিন বলেন, মন্ত্রণালয়ের ভেটিং সম্পন্ন হয়েছে। এখন হোলসিমের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) করা হবে। এরপর বাকি কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে আশা করছি।
চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে প্রতিবছর কয়েক লাখ কোটি টাকা মূল্যের আমদানি ও রফতানি পণ্য পরিবহন হয়। এসব পণ্য থেকে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজ বছরে অন্তত ৮০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করে। দেশের আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের বড় অংশ পরিচালিত হয় এই বন্দরকে কেন্দ্র করে। একই সঙ্গে দেশের অর্থনীতির গতিপ্রকৃতিও অনেকাংশে নির্ভর করে চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর। তাই বৃহৎ অর্থনৈতিক স্বার্থে বন্দরকে নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত রাখা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।






