পারস্য উপসাগরে আটকে থাকা ট্যাংকার জাহাজের ৬ কোটি ব্যারেলেরও বেশি অপরিশোধিত জ্বালানি তেল— হরমুজ প্রণালী দিয়ে বের হয়ে এশিয়ার বাজারের দিকে যাত্রা শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ভূ-কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য পুনরায় উন্মুক্ত হওয়ার সাথে সাথেই আগামী সপ্তাহগুলোতে মধ্যপ্রাচ্য থেকে এশিয়ায় তেলবাহী জাহাজের আগমন আরও বাড়তে পারে।
ব্লুমবার্গে প্রকাশিত ‘সিগন্যাল গ্রুপ’-এর তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালী খোলার পর মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে প্রায় তিন ডজন (৩৬টি) সুপারট্যাংকারে থাকা আনুমানিক ৬ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল এশিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এশিয়া অঞ্চল গত মার্চ মাসের শুরুতেই এই সরবরাহ সংকটের ধাক্কা প্রথম এবং সবচেয়ে বেশি অনুভব করেছিল। তবে এখন দীর্ঘ বিলম্বে আসা অপরিশোধিত তেলের এই বিশাল প্রবাহের কারণে, বাজারে তেলের দামের ওপর এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরি হতে পারে। চীনসহ এশিয়ার শোধনাগারগুলো মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরবরাহ বন্ধ হওয়া এবং বিকল্প উৎস থেকে চড়া মূল্যে তেল কেনার কারণে তাদের তেল পরিশোধনের হার (রান রেট) উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিয়েছিল।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে বের হওয়ার অপেক্ষায় থাকা এই তেলের সরবরাহ—এখন কিছু শোধনাগারকে তাদের তেল পরিশোধনের হার বাড়াতে অথবা গত তিন মাস ধরে কমে যাওয়া বাণিজ্যিক মজুত ট্যাংকগুলো আবার পূরণ করতে উৎসাহিত করতে পারে।
তবে মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ঘাটতি পুষিয়ে নিতে এশিয়া ইতোমধ্যেই পশ্চিম আফ্রিকা এবং উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার সরবরাহকারীদের দিকে ঝুঁকে পড়েছিল। এর ফলে অন্তত জুন এবং জুলাই মাসের জন্য তারা পর্যাপ্ত তেলের মজুত নিশ্চিত করতে পেরেছে বলে মনে হচ্ছে।
পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত এবং নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যবসায়ীরা ব্লুমবার্গকে জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহগুলোর জন্য এশিয়ার শোধনাগারগুলোতে পর্যাপ্ত তেলের সরবরাহ রয়েছে এবং তারা আপাতত সুরক্ষিত অবস্থানে আছে।
হরমুজ প্রণালী খুব শিগগিরই পুনরায় খুলে যাওয়ার এই সম্ভাবনার কারণে বৈশ্বিক বিনিয়োগ ব্যাংকগুলো চলতি বছর এবং আগামী বছরের জন্য তেলের দামের পূর্বাভাস কমিয়ে দিয়েছে।
যেমন মরগ্যান স্ট্যানলি এখন মনে করছে, ২০২৬ সালের শেষ প্রান্তিকে ব্রেন্ট ক্রুড বা অপরিশোধিত তেলের গড় মূল্য প্রতি ব্যারেল ৮০ ডলার এবং তৃতীয় প্রান্তিকে ৯০ ডলার হতে পারে। ব্যাংকটির আগের পূর্বাভাসে তৃতীয় প্রান্তিকে ব্রেন্ট তেলের গড় মূল্য প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলার হওয়ার কথা বলা হয়েছিল, তবে চতুর্থ প্রান্তিকের মূল্য পূর্বাভাস অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে, গোল্ডম্যান স্যাকস চতুর্থ প্রান্তিকের জন্য তাদের তেলের মূল্যের পূর্বাভাস প্রতি ব্যারেল ৯০ ডলার থেকে কমিয়ে ৮০ ডলার করেছে এবং ২০২৭ সালের জন্য ব্রেন্ট ক্রুডের গড় মূল্যের পূর্বাভাস আগের প্রতি ব্যারেল ৮০ ডলার থেকে কমিয়ে ৭৫ ডলারে নামিয়েছে। ব্যাংকটির কমোডিটি বিশ্লেষকদের মতে, আগামী জুলাই মাসের শেষের দিকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।






