দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত এখনো গ্রাহক পর্যায়ে সরবরাহ ও দামের চাপে ধুঁকছে। আমদানি নির্ভরতার ঝুঁকি কতটা তা সাম্প্রতিক ইরান-ইসরাইল এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধসহ বৈশ্বিক সংকটেই স্পষ্ট হয়েছে। বর্তমানে দেশে গ্যাসের দৈনিক চাহিদা ৪ হাজার মিলিয়ন ঘনফুটের বেশি হলেও সরবরাহ রয়েছে মাত্র ২ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর মধ্যে প্রায় ১ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট আসে আমদানি করা এলএনজি থেকে।
তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, প্রতি বছর প্রায় ১৫০ মিলিয়ন ঘনফুট হারে দেশীয় গ্যাস উৎপাদন কমছে। এই সংকট মোকাবিলায় নতুন গ্যাস অনুসন্ধানে জোর দিচ্ছে জ্বালানি বিভাগ। আসছে অর্থবছরে লক্ষ্য হিসাবে ৩৮টি কূপ খনন ও সংস্কারের মাধ্যমে দৈনিক ৬৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। ধাপে ধাপে ২০৩০ সালের মধ্যে মোট ১২৯টি কূপ খননের পরিকল্পনাও নেয়া হয়েছে। এটি বাস্তবায়ন করা গেলে দৈনিক দেড় হাজার মিলিয়ন ঘনফুট পর্যন্ত অতিরিক্ত গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের মুখপাত্র মনির হোসেন বলেন, বর্তমানে ৫০টি কূপ এবং ১০০টি কূপের দুটি প্রকল্প চলমান রয়েছে। এসব কূপ খননের কার্যক্রম কীভাবে আরও গতিশীল করা যায়, সে বিষয়ে সরকার কাজ করছে। শিগগিরই এ ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, উচ্চাভিলাষী অনেক পরিকল্পনা বারবার হোঁচট খেয়েছে। প্রকল্প অনুমোদন ও অর্থছাড়ে ধীরগতি এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কূপ খননের বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দেশে জ্বালানি অনুসন্ধানে বিভিন্ন সময়ে নানা পরিকল্পনা নেয়া হলেও বাস্তবায়নে অনেক কিছুই কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থেকেছে। এবার তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণে বাপেক্স ও পেট্রোবাংলার সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারের কার্যকর নীতি সহায়তার তাগিদ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. শামসুল আলম বলেন, বাপেক্স ও সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি কঠোর তদারকি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। এটি ব্যর্থ হলে প্রয়োজনে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার কথাও ভাবতে হবে। প্রতিষ্ঠানগুলোকে দক্ষ ও কৌশলগত পরিকল্পনার মাধ্যমে পরিচালিত করা প্রয়োজন।
বাপেক্সের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুর্তজা আহমদ ফারুক বলেন, প্রকল্প প্রস্তাব অনুমোদন ও ক্রয় প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতার কারণে কাজের গতি কমে যায়। এই আমলাতান্ত্রিক ও পুরনো ব্যবস্থার পরিবর্তে বাপেক্সকে আরও বেশি নমনীয়তা দিতে হবে, যাতে দ্রুত কাজ এগিয়ে নেয়া যায়।
জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, বাপেক্সকে আরও শক্তিশালী করতে বিদ্যমান পাঁচটি রিগের সঙ্গে নতুন করে আরও দুটি রিগ কেনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।







