ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমের অপসারণের দাবিতে ৩য় দিনের মতো আবারও সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেছেন ‘সচেতন গ্রাহক ফোরামের’ সদস্যরা।
আজ বুধবার (৩ জুন) রাজধানীর দিলকুশায় ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের প্রধান কার্যালয়ের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন তারা। মিছিলটি প্রেস ক্লাব পর্যন্ত যাওয়ার কথা রয়েছে।
বিক্ষোভ মিছিল শুরু হওয়ার আগে ‘সচেতন গ্রাহক ফোরামের’ সভাপতি নুরুল নবি মানিক বলেন, ‘ব্যাংকটির চেয়ারম্যান পদে খুরশীদ আলমকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যাকে জুলাই আন্দোলনের পর বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মীরা ব্যাংক থেকে তাড়িয়ে দিয়েছিল। কারণ সে সময় তিনি আগের সরকারের সময় আর্থিক কেলেঙ্কারিতে জড়িত ছিলেন। তাই এমন একজন ব্যক্তিকে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান করলে ব্যাংকের জন্য হুমকি তৈরি করবে।’
তিনি বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংক দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে বড় ব্যাংক। এ ব্যাংকটি ধ্বংস হয়ে গেলে দেশের অর্থনীতিও ধ্বংস হয়ে যাবে।’
নুরুল নবি বলেন, ‘তাই সরকারকে পরামর্শ দিতে চাই, এ ব্যাংকটি যেন সুষ্ঠভাবে পপরিচালিত হয়। এ জন্য নিয়মতান্ত্রিকভাবে আন্দোলন করা হচ্ছে। এ ব্যাংকটি যাদের মাধ্যমে সমৃদ্ধি লাভ করেছিল, ব্যাংকের ম্যানেজমেন্টে তাদের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হোক।’
তিনি বলেন, ‘এ ব্যাংকে আগেও যাকে চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, তিনিও গ্রাহকদের সার্থ রক্ষা করেন নাই।’
উল্লেখ্য, সোমবার (১ জুন) নতুন চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমের যোগদানের প্রথম দিনে তার নিয়োগ বাতিলের দাবিতে একই ব্যানারে আন্দোলনে নামা লোকজনের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। ওই দিন অবস্থান কর্মসূচি পালনকালে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশের লাঠিচার্জ, সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ারশেল এবং জলকামান ব্যবহারের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ২৫ জন আহত হন।
পরবর্তীতে মঙ্গলবার (২ জুন) সকাল থেকে ‘সচেতন গ্রাহক ফোরাম’-এর ব্যানারে ব্যাংকটির প্রধান ভবনের সামনে অবস্থান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু হয়।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, নতুন চেয়ারম্যান খুরশীদ আলম বিতর্কিত ব্যবসায়ী গ্রুপ ‘এস আলমে’র সহযোগী। এস আলমের ‘দোসরদের’ বোর্ডে বহাল রাখলে ব্যাংকে পুনরায় ব্যাপক লুটপাটের আশঙ্কা রয়েছে। মূলত সাধারণ গ্রাহকদের আমানত ও স্বার্থ রক্ষার্থেই তারা রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
এছাড়া গতকাল পদত্যাগের দাবিতে চলমান আন্দোলনের মুখে ৫ দফা দাবি উত্থাপন করে ‘সচেতন গ্রাহক ফোরাম’। দাবি আদায় না হলে আগামীতে লাগাতার কর্মসূচিতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তারা।
আন্দোলনকারী গ্রাহকদের ঘোষিত ৫ দফা দাবির প্রথমটি হলো—ব্যাংকের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে অবিলম্বে নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমের অপসারণ। দ্বিতীয়ত, সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ওমর ফারুক খানকে পুনরায় ব্যাংকের দায়িত্ব ফিরিয়ে দিতে হবে। তৃতীয়ত, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জন্য যোগ্য নতুন গভর্নর নিয়োগ অথবা বর্তমান গভর্নরের পদত্যাগ নিশ্চিত করতে হবে। চতুর্থত, পূর্বে বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ইসলামী ব্যাংকের সামনে বা আশেপাশে আসা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে হবে। এবং পঞ্চমত, এসব দাবি অনতিবিলম্বে পূরণ না হলে তীব্র ও লাগাতার আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।







