রাজধানীর দিলকুশায় ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের প্রধান কার্যালয়ের সামনে দ্বিতীয় দিনের মতো আবারও ‘সচেতন গ্রাহক ফোরাম’-এর ব্যানারে বিক্ষোভ সমাবেশ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। এবার নবনিযুক্ত চেয়ারম্যানের পাশাপাশি ব্যাংকের বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের (বোর্ড) সব সদস্যের অবিলম্বে পদত্যাগের দাবি তুলেছেন এই ব্যানারে অংশ নেওয়া আন্দোলনকারীরা।
মঙ্গলবার (২ জুন) সকাল থেকে ‘সচেতন গ্রাহক ফোরাম’-এর ব্যানারে ব্যাংকটির প্রধান ভবনের সামনে এই অবস্থান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু হয়।
এর আগে গত সোমবার (১ জুন) নতুন চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমের যোগদানের প্রথম দিনে তার নিয়োগ বাতিলের দাবিতে একই ব্যানারে আন্দোলনে নামা লোকজনের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। ওই দিন অবস্থান কর্মসূচি পালনকালে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশের লাঠিচার্জ, সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ারশেল এবং জলকামান ব্যবহারের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ২৫ জন আহত হন।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, নতুন চেয়ারম্যান খুরশীদ আলম বিতর্কিত ব্যবসায়ী গ্রুপ ‘এস আলমে’র সহযোগী। এস আলমের ‘দোসরদের’ বোর্ডে বহাল রাখলে ব্যাংকে পুনরায় ব্যাপক লুটপাটের আশঙ্কা রয়েছে। মূলত সাধারণ গ্রাহকদের আমানত ও স্বার্থ রক্ষার্থেই তারা রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
এছাড়া গতকাল পদত্যাগের দাবিতে চলমান আন্দোলনের মুখে ৫ দফা দাবি উত্থাপন করে ‘সচেতন গ্রাহক ফোরাম’। দাবি আদায় না হলে আগামীতে লাগাতার কর্মসূচিতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তারা।
আন্দোলনকারী গ্রাহকদের ঘোষিত ৫ দফা দাবির প্রথমটি হলো—ব্যাংকের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে অবিলম্বে নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমের অপসারণ। দ্বিতীয়ত, সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ওমর ফারুক খানকে পুনরায় ব্যাংকের দায়িত্ব ফিরিয়ে দিতে হবে। তৃতীয়ত, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জন্য যোগ্য নতুন গভর্নর নিয়োগ অথবা বর্তমান গভর্নরের পদত্যাগ নিশ্চিত করতে হবে। চতুর্থত, পূর্বে বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ইসলামী ব্যাংকের সামনে বা আশেপাশে আসা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে হবে। এবং পঞ্চমত, এসব দাবি অনতিবিলম্বে পূরণ না হলে তীব্র ও লাগাতার আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।







