চট্টগ্রামে কোরবানির পশুর চামড়া নিয়ে দীর্ঘদিনের পুরোনো সংকট আবারও প্রকট হয়ে দেখা দিয়েছে। চামড়ার ন্যায্যমূল্য না পাওয়া এবং আড়তদারদের অনীহার কারণে ক্ষুব্ধ মৌসুমি ব্যবসায়ীরা অনেক স্থানে সড়কে চামড়া ফেলে রেখে চলে গেছেন।
কেউ নামমাত্র দামে বিক্রি করেছেন, আবার কেউ লোকসান সইতে না পেরে বিনা টাকায় আড়তে চামড়া রেখে এসেছেন। ফলে এবারের চামড়ার বাজারেও সিন্ডিকেটের অভিযোগ এবং চরম হতাশা সামনে এসেছে।
ঈদের দিন বিকেল পর্যন্ত চট্টগ্রামের চামড়ার বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও রাত বাড়ার সাথে সাথে নগরের আতুরার ডিপো ও আগ্রাবাদ চৌমুহনী এলাকায় বিশৃঙ্খলা শুরু হয়।
আজ শুক্রবার (৩০ মে) সকালে আতুরার ডিপো এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সড়কের পাশে স্তূপ হয়ে পড়ে আছে গরুর শত শত চামড়া। এসব চামড়া থেকে চারদিকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে এবং মাছি ভনভন করছে। অনেক চামড়ায় ইতিমধ্যে ময়লা জমে নষ্ট হতে শুরু করেছে। পরিস্থিতির সামাল দিতে সিটি করপোরেশনের বর্জ্যবাহী ট্রাক এসব চামড়া অপসারণ করছে।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের উপপ্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্ম্মা জানান, ‘গতবারের তুলনায় এবার সড়কে ফেলে যাওয়া চামড়ার পরিমাণ কিছুটা কম। এখন পর্যন্ত আমরা বহদ্দারহাট ও বড়পোল এলাকা থেকে প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০টি চামড়া সংগ্রহ করে সরিয়ে ফেলেছি। আমাদের পরিচ্ছন্নতা অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
মৌসুমি ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, আড়তদাররা পরিকল্পিতভাবে সিন্ডিকেট করে দাম কমিয়ে দিয়েছেন। তাদের দাবি, ঈদের দিন বিকেল পর্যন্ত বাজারে চাহিদার আভাস থাকলেও রাত বাড়ার সাথে সাথে আড়তদাররা হঠাৎ দাম কমিয়ে দেন। ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায় কেনা চামড়ার বিপরীতে মাত্র ৫০ থেকে ১৫০ টাকা দাম প্রস্তাব করা হয়।
এদিকে চট্টগ্রাম বৃহত্তর কাঁচা চামড়া আড়তদার ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির দাবি, লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ীই চামড়া সংগ্রহ করা হয়েছে। সমিতির তথ্যমতে, এবার প্রায় ৪০ জন আড়তদার চামড়া কিনেছেন এবং চট্টগ্রাম জেলা ও নগর মিলিয়ে প্রায় ৪ লাখ চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়েছে।
সমিতির অর্থ সম্পাদক মো. আইয়ুব বলেন, ‘আমরা সাড়ে ৩ লাখের বেশি চামড়া সংগ্রহ করেছি। মানভেদে ২৫০ থেকে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকায় চামড়া কেনা হয়েছে। অনেক আড়তদার তাদের লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি চামড়া কিনেছেন। আমি নিজেও ২ হাজারের জায়গায় ৩ হাজার চামড়া সংগ্রহ করেছি।’
প্রদা/ডিও







