হরমুজ প্রণালির কাছে হুমকি তৈরি করায় ইরানের একটি সামরিক ঘাঁটি এবং চারটি ‘ওয়ান-ওয়ে অ্যাটাক’ ড্রোন লক্ষ্য করে নতুন হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। আজ বৃহস্পতিবার এই হামলা চালানো হয় বলে একজন মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন। এ নিয়ে তিন দিনে দ্বিতীয়বার ইরানে হামলা চালাল মার্কিন বাহিনী৷
অন্যদিকে, মার্কিন বাহিনীর হামলার জবাবে একটি ‘আমেরিকান বিমানঘাঁটিতে’ পাল্টা আঘাত হানার দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই মার্কিন কর্মকর্তা জানান, যে সামরিক স্থাপনায় মার্কিন হামলা চালানো হয়েছে, সেটি ইরানের বন্দর আব্বাসে অবস্থিত একটি গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশন। সেখান থেকে পঞ্চম একটি ড্রোন ওড়ানোর প্রস্তুতি চলছিল।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে এই যুদ্ধ শুরু হয়। তিন মাস ধরে চলা এই যুদ্ধে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম হু হু করে বেড়েছে। যুদ্ধ অবসানের জন্য চলমান আলোচনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন হামলার খবর এল।
ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘(যুক্তরাষ্ট্রের) এই পদক্ষেপগুলো ছিল সুপরিকল্পিত এবং পুরোপুরি আত্মরক্ষামূলক। যুদ্ধবিরতি বজায় রাখতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’
এর আগে বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের একটি প্রতিবেদন নাকচ করে দেন। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে একটি শান্তি চুক্তির অংশ হিসেবে ইরান ও ওমান যৌথভাবে হরমুজ প্রণালির জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করবে। ট্রাম্প দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, এই নৌপথ সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
এর আগে গত সোমবারও ইরানের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষামূলক হামলা চালানোর কথা জানিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে ইরান একে যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন বলে আখ্যা দেয়।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, সোমবারের হামলায় এমন কিছু নৌকাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল, যেগুলো মাইন বসানোর চেষ্টা করছিল। এ ছাড়া এমন কিছু মিসাইল লঞ্চ সাইটেও আঘাত হানা হয়, যেগুলো মার্কিন বাহিনীর জন্য হুমকি তৈরি করেছিল।
মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা হামলা
মার্কিন বাহিনীর হামলার জবাবে একটি ‘আমেরিকান বিমানঘাঁটিতে’ পাল্টা আঘাত হানার দাবি করেছে আইআরজিসি।
আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম-এ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ৫০ মিনিটে ওই বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে।
আইআরজিসির দাবি, ওই ঘাঁটি থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের হামলাটি চালানো হয়েছিল। তবে বিমানঘাঁটিটি ঠিক কোথায় অবস্থিত, তা তারা জানায়নি।
বন্দর আব্বাসের উপকণ্ঠে মার্কিন সামরিক বাহিনীর হামলার খবরের পরপরই আইআরজিসি এই পাল্টা হামলার ঘোষণা দিল।
আইআরজিসি তাদের বিবৃতিতে সতর্ক করেছে যে ভবিষ্যতে এ ধরনের সামরিক পদক্ষেপের আরও কঠোর জবাব দেওয়া হবে।







