আগামী পাঁচ বছরে ৫০০ বিলিয়ন (৫০ হাজার কোটি) ডলার সমমূল্যের মার্কিন পণ্য কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ভারত। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও রোববার (২৪ মে) এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে এক বৈঠকের পর রুবিও এই ঘোষণা দেন। এর আগে, ‘কোয়াড’ (ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও জাপান) জোটের বৈঠকের আগে শনিবার তিনি দিল্লি পৌঁছান।
গত ফেব্রুয়ারিতে নয়াদিল্লি ও ওয়াশিংটনের মধ্যে একটি বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, ভারত জ্বালানি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, কৃষি এবং কয়লাসহ বিভিন্ন খাতে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন পণ্য কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
তবে পরবর্তীতে নথিতে শব্দগত পরিবর্তন এনে একে ‘প্রতিশ্রুতি’র বদলে ভারতের ‘আগ্রহ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে মার্কো রুবিও মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর এবং অন্যান্য কূটনীতিকদের এই চুক্তিটি বাস্তবে রূপ দেওয়ার প্রচেষ্টার জন্য ধন্যবাদ জানান।
তিনি জানান, ভারতের এই বিনিয়োগ মূলত জ্বালানি, প্রযুক্তি এবং কৃষি খাতের ওপর গুরুত্ব দেবে।
এর আগে গত ৮ ফেব্রুয়ারি ভারতের কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল জানিয়েছিলেন, ৫০০ বিলিয়ন ডলারের এই অংকটি মূলত ভারতের ব্যবসায়িক ইচ্ছার প্রতিফলন, এটি কোনো বাধ্যতামূলক বাধ্যবাধকতা নয়।
তিনি সংবাদসংস্থা এএনআই-কে বলেছিলেন, ‘আমাদের কিনতেই হবে এমন কোনো কথা নেই। আমরা নির্দিষ্ট কিছু সরঞ্জাম কেনার পরিকল্পনা করছি।’
তিনি আরও জানান, পণ্য কেনা নির্ভর করবে দাম, মান এবং চাহিদার ওপর। এছাড়া, প্রতি বছর ১০০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য কেনার বাধ্যবাধকতার দাবিও তিনি নাকচ করে দেন।
রোববার ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং মার্কো রুবিও এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র একটি অন্তর্বর্তীকালীন বাণিজ্য চুক্তির কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এ লক্ষ্যে আলোচনার প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে এবং দুই দেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে শীঘ্রই একটি মার্কিন প্রতিনিধি দল নয়াদিল্লি সফর করবে।
জয়শঙ্কর বলেন, ‘অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে আমরা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট এবং উভয় পক্ষের জন্য উপকারী একটি অন্তর্বর্তীকালীন বাণিজ্য চুক্তির চূড়ান্ত খসড়া দ্রুত সম্পন্ন করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেছি।’
সংবাদ সম্মেলনে রুবিও বলেন, ‘আমরা আশা করছি খুব শিগগিরই আমাদের বাণিজ্য প্রতিনিধি এখানে সফরে আসতে পারবেন। আমরা যুক্তরাষ্ট্রে একটি ভারতীয় প্রতিনিধিদল পেয়েছিলাম… আমরা অসাধারণ অগ্রগতি করেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার মনে হয়, শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে এমন একটি বাণিজ্য চুক্তি হবে, যা দীর্ঘস্থায়ী, উভয় পক্ষের জন্য লাভজনক এবং টেকসই হবে। একই সঙ্গে এটি আমাদের জাতীয় স্বার্থের বিষয়গুলোও সমাধান করবে।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতির কারণে দুই দেশের সম্পর্কের কিছুটা অবনতি হয়েছিল। রুবিওর এই সফর মূলত সেই সম্পর্ককে পুনরায় স্থিতিশীল করার একটি উদ্যোগ।
এর আগে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার জেরে ভারতের ওপর ২৫ শতাংশ শাস্তিমূলক কর আরোপসহ মোট মার্কিন শুল্কের হার ৫০ শতাংশে পৌঁছেছিল।
তবে গত ২ ফেব্রুয়ারি দুই দেশের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তীকালীন বাণিজ্য কাঠামো নিয়ে সমঝোতা হওয়ার পর ট্রাম্প সেই অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শাস্তিমূলক কর তুলে নেন। এর ফলে বর্তমানে ভারতে উৎপাদিত পণ্যের ওপর মার্কিন শুল্কের হার ১৮ শতাংশে নেমে এসেছে।







