বিশ্বসেরা জ্বালানি কোম্পানিগুলোকে আকৃষ্ট করার লক্ষ্যে সংশোধিত উৎপাদন অংশীদারিত্ব কাঠামোর অধীনে বঙ্গোপসাগরের ২৬টি ব্লকে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য সরকার আজ (২৪ মে) আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক দরপত্র প্রক্রিয়া শুরু করতে যাচ্ছে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এবং পেট্রোবাংলার কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ অফশোর মডেল প্রোডাকশন শেয়ারিং কন্ট্রাক্ট ২০২৬-এর আওতায় দরপত্র বিজ্ঞপ্তিটি আজ অফিশিয়াল ওয়েবসাইট ও সংবাদপত্রে প্রকাশ করা হচ্ছে।
এই দরপত্রের আওতায় অগভীর সমুদ্রের ১১টি ব্লক ও গভীর সমুদ্রের ১৫টি ব্লক রয়েছে। আগের অফশোর দরপত্রগুলোতে পর্যাপ্ত সাড়া না পাওয়ায় এবার সংশোধিত আর্থিক প্রণোদনা, মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি, নমনীয় অনুসন্ধান শর্তাবলি ও গ্যাস রপ্তানির বিধান বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ আবার বাড়াবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।
১ জুন থেকে কোম্পানিগুলো দরপত্রের ডকুমেন্ট কিনতে পারবে। দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত। ফলে ভূতাত্ত্বিক তথযা যাচাই-বাছাই ও প্রস্তাবনা তৈরির জন্য কোম্পানিগুলো ছয় মাস সময় পাবে।
কর্মকর্তারা জানান, গ্যাসক্ষেত্রের জন্য ২৫ বছর ও তেলক্ষেত্রের জন্য ২০ বছর উৎপাদনকাল নির্ধারণ করা হয়েছে, যা প্রয়োজনে আরও ১০ বছর পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে।
দরপত্র কাঠামোর রূপরেখা তুলে ধরতে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ আজ দুপুর আড়াইটায় একটি ‘মিট দ্য প্রেস’ ব্রিফিংয়েরও আয়োজন করেছে।
জ্বালানি বিভাগের যুগ্ম সচিব ও উন্নয়ন অনুবিভাগের প্রধান হায়াত মো. ফিরোজ বলেন, আজ অফশোর দরপত্র প্রক্রিয়া চালু করার সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
গতকাল টিবিএসকে তিনি বলেন, ‘রোববার সকাল থেকেই ওয়েবসাইটে টেন্ডার নোটিশ পাওয়া যাবে।’
দরপত্র বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ১ জুন থেকে ১০০ ডলারের বিনিময়ে ভূতাত্ত্বিক তথ্য, ব্লকের মানচিত্র-সংশ্লিষ্ট উপকরণ সংবলিত প্রাথমিক তথ্য প্যাকেজ পাওয়া যাবে।
এদিকে সিসমিক সেকশন, গ্র্যাভিটি ডেটা, ম্যাগনেটিক ডেটা ও ভূতাত্ত্বিক মানচিত্রসহ পূর্ণাঙ্গ প্রমোশনাল প্যাকেজের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ হাজার ডলার।
পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, প্রাথমিক ছয় মাসের সময়সীমার মধ্যে আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে আশানুরূপ সাড়া পাওয়া না গেলে দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় বাড়ানো হতে পারে।
বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে সংশোধিত পিএসসি
কর্মকর্তারা বলেন, ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ জ্বালানি চাহিদা ও ক্রমাগত কমতে থাকা গ্যাস মজুতের বিষয়টি মাথায় রেখে আঞ্চলিক উৎপাদনকারীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতামূলক বিডিং প্রক্রিয়ার লখে বাংলাদেশ অফশোর মডেল প্রোডাকশন শেয়ারিং কন্ট্রাক্ট ২০২৬-এ বড় ধরনের সংশোধন আনা হয়েছে।
নতুন কাঠামোতে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের আন্তর্জাতিক দামের সঙ্গে যুক্ত গ্যাসের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি, পাইপলাইন ট্যারিফ মেকানিজম, মুনাফা সম্পূর্ণ নিজের দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার সুবিধা, কর অব্যাহতি, ঠিকাদারদের জন্য গ্যাস রপ্তানির অধিকার ও রাজনৈতিক ঝুঁকি সুরক্ষার ধারা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া বিনিয়োগকারীদের প্রাথমিক ব্যয় কমাতে ‘সিগনেচার বোনাস’ দেওয়ার বাধ্যবাধকতাও তুলে নেওয়া হয়েছে।
পেট্রোবাংলার প্রোডাকশন শেয়ারিং কন্ট্রাক্ট (পিএসসি) শাখার পরিচালক প্রকৌশলী মো. শোয়েব বলেন, সংশোধিত শর্তাবলি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে এবং আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার লক্ষ্যে তৈরি করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অভ্যন্তরীণ জ্বালানি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে গৃহীত একটি অনুসন্ধান পরিকল্পনার সঙ্গে মিল রেখে সরকার এই কাঠামোর প্রস্তুতি দ্রুত সম্পন্ন করেছে।
দরদাতাদের যোগ্যতার মানদণ্ড
দরপত্র দলিলে অংশগ্রহণকারী কোম্পানিগুলোর জন্য কঠোর যোগ্যতার শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
অগভীর সমুদ্র ব্লকের জন্য দরপত্রে অংশ নেওয়া কনসোর্টিয়ামের অন্তত একটি সদস্য কোম্পানিকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে অফশোর ব্লকের সফল অপারেটর হতে হবে। একইসঙ্গে দৈনিক ন্যূনতম ৫ হাজার ব্যারেল তেল অথবা ৭৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদনের সক্ষমতা থাকতে হবে।
গভীর সমুদ্র ব্লকের ক্ষেত্রে এই যোগ্যতার পরিমাপ বাড়িয়ে দৈনিক ১০ হাজার ব্যারেল তেল অথবা ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর পাশাপাশি কোম্পানিগুলোকে তাদের নিজ দেশের বাইরে অন্তত একটি অনুসন্ধান ও উৎপাদন কাজের অভিজ্ঞতা থাকার প্রমাণ দেখাতে হবে।






