চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় অতিবৃষ্টিতে একটি বাড়ির সীমানা দেয়াল ধসে বেলুয়ারা বেগম (৪৯) নামে এক নারী প্রাণ হারিয়েছেন। এ ঘটনায় শিশুসহ আরও তিনজন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকেলে কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা ইউনিয়নের আহসানিয়াপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
এদিকে বৃষ্টিতে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। আজ দুপুর থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিতে নগরীর প্রবর্তক মোড়সহ বিভিন্ন নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ মানুষ। গতকাল মঙ্গলবারেও বৃষ্টিতে বিভিন্ন শহরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছিল।
বেলুয়ারা বেগম নিহতের বিষয়ে কর্ণফুলী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. শফিউল্লাহ টিবিএসকে বলেন, বাড়ির পাশে ভ্যান থেকে সবজি কিনতে গিয়েছিলেন বেলুয়ারা বেগম। এ সময় পাশের একটি বাড়ির সীমানা দেয়াল ভেঙে পড়ে। এতে তিনিসহ আরো তিনজন চাপা পড়েন।
পরে স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক বেলুয়ারা বেগমকে মৃত ঘোষণা করেন। আর সবজি বিক্রেতা মো. রুবেল (৩০) গুরুতর আহত হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আহত দুই শিশু হলো— কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা ইউনিয়নের মিজবাহ (১২) ও সাফাত (৭)। নিহত বেলুয়ারা বেগম শিকলবাহা ইউনিয়নের আহসানিয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা ছিলেন।
এ বিষয়ে কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনূর আলম টিবিএসকে বলেন, “অতিবৃষ্টির কারণে পুরোনো সীমানা প্রাচীর ধসে পড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।”
তিনি আরো বলেন, ‘নিহত নারীর লাশ বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আহতদের চিকিৎসা চলছে। ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি টিম পাঠানো হয়েছে।’
এদিকে জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি পরিদর্শনে গিয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন জনগণের ভোগান্তির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন খালে রিটেইনিং ওয়াল করার জন্য বাঁধ দেওয়া হয়েছিল। তবে প্রত্যাশার চেয়ে আগেই ভারি বৃষ্টি হওয়ায় পানি নামতে বাধা পেয়েছে।
মেয়র জানান, তিনি সেনাবাহিনী এবং সিডিএ চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলে বাঁধগুলো দ্রুত খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন এবং এরপর থেকেই পানি নামতে শুরু করেছে।
চট্টগ্রাম আবহাওয়া অফিসের উপ-পরিচালক মো. আব্দুর রহমান জানিয়েছেন, আগামী ৩ মে পর্যন্ত চট্টগ্রাম ও আশপাশের এলাকায় হালকা থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এর সঙ্গে দমকা হাওয়া ও কালবৈশাখী ঝড় হতে পারে। বিশেষ করে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার বৃষ্টির তীব্রতা বাড়ার শঙ্কা রয়েছে। তবে এই সময়ে তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকলেও বৃষ্টির কারণে নগরবাসীকে আরও কয়েকদিন এমন বৈরী পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।






