মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল (ওএফএসি) জানিয়েছে, তালিকাভুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে লেনদেন এবং ইরানের সন্ত্রাসে পৃষ্ঠপোষকতার সঙ্গে জড়িত বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের অর্থ স্থানান্তরে সহায়তা করেছে।
ওএফএসি আলাদাভাবে ব্যাংকগুলোকে সতর্ক করে বলেছে, হরমুজ প্রণালি পারাপারের জন্য ইরান সরকার বা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড (আইআরজিসি)-কে অর্থ প্রদানকারী কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যবসা করলে তারা কঠোর নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারে।
বিশেষভাবে চীনের শানডং প্রদেশভিত্তিক স্বাধীন ‘টিপট’ রিফাইনারিগুলোর দিকে নজর দেয়া হয়েছে, কারণ তারা ইরানি তেল আমদানি ও পরিশোধনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এসব প্রতিষ্ঠানের কিছু অংশ ডলার লেনদেন এবং মার্কিন পণ্য সংগ্রহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক ব্যবস্থা ব্যবহার করেছে। তবে চীন একতরফা অবৈধ নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করেছে।
এদিকে দুই মাস ধরে চলা ইরান যুদ্ধের অবসান নিয়ে প্রচেষ্টা অচলাবস্থায় রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানের সর্বশেষ প্রস্তাবে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন, যেখানে সংঘাত শেষ না হওয়া পর্যন্ত পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা স্থগিত রাখার কথা বলা হয়েছে।
ট্রেজারি জানিয়েছে, মঙ্গলবারের নিষেধাজ্ঞাগুলো এমন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে দেয়া হয়েছে, যারা ইরানের সশস্ত্র বাহিনী; বিশেষ করে আইআরজিসিকে আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থায় প্রবেশাধিকার পেতে সহায়তা করেছে। এর মাধ্যমে অবৈধ তেল বিক্রির অর্থ গ্রহণ, ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য অস্ত্রের জন্য সংবেদনশীল যন্ত্রাংশ কেনা এবং আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোতে অর্থ পাঠানো হয়েছে।
মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট এক বিবৃতিতে বলেন, ইরানের শ্যাডো ব্যাংকিং ব্যবস্থা তাদের সশস্ত্র বাহিনীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক লাইফলাইন, যা বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যাহত করে এবং মধ্যপ্রাচ্যে সহিংসতা বাড়ায়।
তিনি আরও বলেন, এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে প্রবাহিত অবৈধ অর্থ সন্ত্রাসী কার্যক্রমকে সহায়তা করছে, যা মার্কিন নাগরিক, আঞ্চলিক মিত্র এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য সরাসরি হুমকি।







