সংরক্ষিত নারী আসনকে ঘিরে চট্টগ্রামে বিএনপির রাজনীতিতে নতুন করে গতি এসেছে। দলীয় মনোনয়ন পেতে চট্টগ্রাম থেকে ৩৬ জন নারী নেত্রীকে সাক্ষাৎকারের জন্য ডেকেছে বিএনপির মনোনয়ন বোর্ড। আজ শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর গুলশানে দলটির চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসনের মধ্যে বিএনপি জোটের জন্য বরাদ্দ রয়েছে ৩৬টি আসন। ফলে চূড়ান্তভাবে সমসংখ্যক প্রার্থী মনোনয়ন পেলে তারা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ কারণে চট্টগ্রামের নেত্রীদের মধ্যে মনোনয়ন পাওয়ার প্রতিযোগিতা এখন তুঙ্গে।
চট্টগ্রামের রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ও ত্যাগী হিসেবে পরিচিত একাধিক নেত্রী এবার মনোনয়ন প্রত্যাশী। তারা বলছেন, দলের দুঃসময়ে রাজপথে সক্রিয় থাকা, মামলা-হামলা মোকাবিলা এবং দীর্ঘদিন সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।
অন্যদিকে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব ইঙ্গিত দিয়েছে, শুধু ত্যাগ নয়— সংসদে কার্যকর ভূমিকা রাখার সক্ষমতা, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও রাজনৈতিক দক্ষতাকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে। ফলে প্রার্থী বাছাইয়ে ভারসাম্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলার রাজনীতিতে সক্রিয় অনেক পরিচিত মুখ এবার সাক্ষাৎকারের তালিকায় রয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন আইনজীবী, চিকিৎসক, সংগঠক ও বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের দায়িত্বশীল নেত্রী। এতে করে চট্টগ্রাম কেন্দ্রিক নারী নেতৃত্বের একটি শক্তিশালী প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) কেন্দ্রীয় তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক নাজমা সাঈদ বলেন, ‘আন্দোলন-সংগ্রাম ও দলীয় কর্মসূচিতে ঝুঁকি নিয়েও আমি দীর্ঘদিন সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছি। দলীয় আদর্শে অটল থাকতে গিয়ে আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়া এবং চাকরি হারানোর মতো ত্যাগ স্বীকার করলেও কখনো আদর্শ থেকে বিচ্যুত হইনি’।
জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় নেত্রী ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা বলেন, ‘আমি সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হতে চেয়েছিলাম, তবে দল মনোনয়ন দেয়নি। তবুও আমি দলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে দলের পক্ষে কাজ করেছি’।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংরক্ষিত নারী আসনকে ঘিরে এই বাছাই প্রক্রিয়া শুধু মনোনয়ন নির্ধারণেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি ভবিষ্যতে চট্টগ্রামে বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থান ও নেতৃত্বের কাঠামোতেও প্রভাব ফেলতে পারে।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২১ এপ্রিল মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিন, ২২ ও ২৩ এপ্রিল যাচাই-বাছাই এবং ১২ মে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।






