চট্টগ্রামে জ্বালানি সংকটের ধাক্কায় বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গিয়ে লোডশেডিং ২৫০ মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে। ১৭ এপ্রিল (শুক্রবার) সকাল ও সন্ধ্যার হিসাবেই দেখা গেছে, চাহিদা ও সরবরাহের বড় ব্যবধান তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে ছয়টি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র বন্ধ থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এর প্রভাবে দিনের অর্ধেক সময় বিদ্যুৎবিহীন থেকে নগরজীবন কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে, আর রাত নামলেই ভোগান্তি বেড়ে যাচ্ছে কয়েকগুণ।
চট্টগ্রামের (বিতরণ) দক্ষিণাঞ্চলের ২৮টি কেন্দ্রের মধ্যে জ্বালানি সংকটের কারণে ছয়টি বন্ধ রয়েছে। এতে দৈনিক লোডশেডিং ২৫০ মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যাচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ভুগছেন শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ মানুষ। একবার বিদ্যুৎ চলে গেলে তা ফিরে আসতে সময় লাগছে দুই থেকে তিন ঘণ্টা, যা রাতে আরও অসহনীয় হয়ে উঠছে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চট্টগ্রাম জোনের হিসাবে, ১৫ এপ্রিল সকাল ১১টায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১ হাজার ৩৮৪ মেগাওয়াট, যা সন্ধ্যা ৭টায় বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ৪৩২ দশমিক ৭৩ মেগাওয়াটে। বিপরীতে সরবরাহ ছিল সকাল ১১টায় ১ হাজার ৯৫ দশমিক ৯৬ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যা ৭টায় ১ হাজার ৪৭০ মেগাওয়াট। এই হিসাবে লোডশেডিং দাঁড়িয়েছে ২৮১ দশমিক ৮২ মেগাওয়াট।
ভোগান্তিতে নগরজীবন
ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে নগরীর চকবাজার, বহদ্দারহাট, পাঁচলাইশ, কাতালগঞ্জ, শোলকবহর, বাকলিয়া, কাজির দেউড়ি, লাভলেইন, জুবিলী রোড, টেরিবাজার, হাজারী গলি, আন্দরকিল্লা, দেওয়ান বাজার, মুন্সি পুকুর পাড়, আগ্রাবাদ, দেওয়ানহাট, হামজারবাগ, শুলকবাহর, মুরাদপুর, বিবিরহাট, হালিশহর ও বন্দরসহ বিভিন্ন এলাকায় মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। ভ্যাপসা গরমে বিদ্যুৎ না থাকায় জীবনযাত্রা হয়ে উঠেছে দুর্বিষহ।
লোডশেডিংয়ের কারণে বাসাবাড়িতে ওয়াসার পানি সংগ্রহেও সমস্যা দেখা দিয়েছে। এতে অনেকেই পানি সংকটে পড়ছেন। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের মধ্যে অসুস্থতার ঝুঁকি বাড়ছে।
বন্ধ ও সচল কেন্দ্রের চিত্র
কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ইউনিট ২ (৪৬ মেগাওয়াট), ৩ (৫০ মেগাওয়াট) এবং ৫ (৫০ মেগাওয়াট) বন্ধ রয়েছে। কাপ্তাই-৪ (৫০ মেগাওয়াট) থেকে উৎপাদন হয়েছে ৮০ মেগাওয়াট। পাশাপাশি রাউজান-১ ও রাউজান-২—দুটি ২১০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। জুডিয়াকের ৫৪ মেগাওয়াটের কেন্দ্রটিও বন্ধ।
সচল কেন্দ্রগুলোর মধ্যে এনলিমা ১১৬ মেগাওয়াট কেন্দ্র থেকে সকাল ১১টায় উৎপাদন হয়েছে ১০০ মেগাওয়াট, যা সন্ধ্যা ৭টায় কমে দাঁড়ায় ১৭ মেগাওয়াটে। আনোয়ারা ইউনাইটেড ৩০০ মেগাওয়াট কেন্দ্র থেকে উৎপাদন হয়েছে ৩২ মেগাওয়াট এবং মিরসরাইয়ের বিআর পাওয়ারে ৩৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে।
বারাকা ৫০ মেগাওয়াট কেন্দ্র থেকে ৫৯ মেগাওয়াট, বারাকা কর্ণফুলী ১১০ মেগাওয়াট কেন্দ্র থেকে ১১১ মেগাওয়াট এবং বারাকা শিকলবাহা ১০৫ মেগাওয়াট কেন্দ্র থেকে ৮৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে।
কক্সবাজার উইন্ড প্ল্যান্ট থেকে সকাল ও সন্ধ্যা উভয় সময়েই ২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে। দোহাজারী ১০০ মেগাওয়াট কেন্দ্র থেকে ৬৭ মেগাওয়াট, এনার্জিপ্যাক ১০০ মেগাওয়াট কেন্দ্র থেকে ৭৫ মেগাওয়াট এবং হাটহাজারী ১০০ মেগাওয়াট কেন্দ্র থেকে ৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে।
জুলধা-২ ও জুলধা-৩ কেন্দ্র থেকে ২৪ মেগাওয়াট করে, কাপ্তাই সোলার কেন্দ্র থেকে ১ দশমিক ৮৭ মেগাওয়াট এবং কাপ্তাই-১ কেন্দ্র থেকে ৩০ মেগাওয়াট উৎপাদন হয়েছে। কেইপিজেড কেন্দ্র থেকে পাওয়া গেছে ৩ দশমিক ৮৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।
মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে উৎপাদন হয়েছে ৩২০ মেগাওয়াট, শিকলবাহা ২২৫ মেগাওয়াট কেন্দ্র থেকে ৪২৭ মেগাওয়াট এবং বাঁশখালীর এস আলম কেন্দ্র থেকে ৯০২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে।
আরপিসিএল থেকে ৩৩ মেগাওয়াট, টেকনাফ সোলার কেন্দ্র থেকে ১৭ দশমিক ৪৪ মেগাওয়াট এবং ইউনাইটেড পাওয়ার ৫০ মেগাওয়াট কেন্দ্র থেকে উৎপাদন হয়েছে ৮ মেগাওয়াট।
প্রদা/ডিও







