৪০ বছর ধরে আমাদের আকাশের টাকা নিচ্ছিল ভারত ও মিয়ানমার। অবশেষে চার দশকের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে নিজস্ব আকাশসীমার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে এসেছে বাংলাদেশ। এতদিন পুরোনো রাডারের কারণে বঙ্গোপসাগরের বিশাল অংশ নজরদারির বাইরে থাকায় বিদেশি ফ্লাইট থেকে নেভিগেশন চার্জ আদায়ে ঘাটতি ছিল। নতুন প্রযুক্তি স্থাপনের মাধ্যমে সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটেছে।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) নিজস্ব অর্থায়নে প্রায় ৭৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে অত্যাধুনিক রাডার ও সিএনএস-এটিএম (CNS-ATM) সিস্টেম স্থাপন করেছে। ফ্রান্সের ‘থ্যালস’ প্রযুক্তির এই রাডারের আওতায় এখন ঢাকা ও চট্টগ্রাম আকাশসীমা সম্পূর্ণভাবে পর্যবেক্ষণের মধ্যে এসেছে।
নতুন রাডারের ফলে বঙ্গোপসাগরের প্রায় ১ লাখ ১৮ হাজার বর্গকিলোমিটার আকাশসীমা এখন সরাসরি নজরদারিতে রয়েছে। আগে এই অঞ্চলের অনেক ফ্লাইটের তথ্য সঠিকভাবে রেকর্ড না হওয়ায় সম্ভাব্য রাজস্ব হাতছাড়া হতো।
বর্তমানে আকাশসীমায় প্রবেশ করা প্রতিটি ফ্লাইটের জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিল তৈরি হচ্ছে। প্রতি ফ্লাইটে ন্যূনতম ৫০০ ডলার নেভিগেশন চার্জ নির্ধারণ করা হয়েছে, যা সরাসরি দেশের রাজস্বে যুক্ত হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, নতুন ব্যবস্থার ফলে বার্ষিক নেভিগেশন আয় প্রায় দ্বিগুণ হয়ে ৩ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে, যা আগে ছিল প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।
এ ছাড়া অননুমোদিত ড্রোন বা বিমান প্রবেশের ক্ষেত্রেও তাৎক্ষণিক সতর্কতা পাওয়া যাচ্ছে, ফলে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও আরও জোরদার হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, আধুনিক এই রাডার ব্যবস্থার মাধ্যমে বাংলাদেশের আকাশসীমা এখন সম্পূর্ণ নিজস্ব নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং দীর্ঘদিনের রাজস্ব ক্ষতির অবসান ঘটেছে।
প্রদা/ডিও
Copyright © 2018-2025: Dainik Orthoniti II Design By : F.A.CREATIVE FIRM LTD
Copyright © 2018-2025: Dainik Orthoniti II Design By : F.A.CREATIVE FIRM LTD