শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকেলে ইসলামাবাদে এ আলোচনার আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়।
ইরান মনে করে লেবাননে যুদ্ধবিরতি এখনো পুরোপুরি কার্যকর হয়নি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও বেশ কয়েকজন সামরিক কমান্ডারকে হত্যার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে। এর জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ওই অঞ্চলে এবং দখলকৃত ভূখণ্ডে মার্কিন ও ইসরায়েলি অবস্থানগুলোতে পাল্টা হামলা চালায়।
পরিস্থিতি শান্ত করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ৮ এপ্রিল একটি দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যা ইসলামাবাদের এ আলোচনার সুযোগ করে দিয়েছে। ইরান আলোচনার জন্য একটি ১০ দফা পরিকল্পনা পেশ করেছে, যার মধ্যে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহার, নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং কৌশলগত হরমুজ প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণের দাবি রয়েছে।
ইরান সরকার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি তাদের অবিশ্বাস বজায় রেখেছে। তাদের মতে, এই আলোচনার উদ্দেশ্য সংঘাত মেটানো নয়, বরং যুদ্ধক্ষেত্রকে কূটনৈতিক ময়দানে স্থানান্তরিত করা।
এদিকে, ইসলামাবাদে একদিনেই ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা দেখা গেছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে বসেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধি দল, যা মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি ঘিরে নতুন কূটনৈতিক হিসাব-নিকাশের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
হোয়াইট হাউজ নিশ্চিত করেছে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে পাকিস্তানে অবস্থান করছেন। এ প্রেক্ষাপটে মূল বৈঠকের আগে তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেন।
মার্কিন প্রতিনিধি দলে আরও উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার।
একই দিন ইরানের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দলও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে। দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের নেতৃত্বে আসা এ দলে ছিলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তথ্যমতে, বৈঠকে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভিও উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকগুলোকে ঘিরে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো না হলেও ধারণা করা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্ভাব্য আলোচনার আগে আঞ্চলিক কৌশল, মধ্যস্থতায় পাকিস্তানের ভূমিকা এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
এর আগে এক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ আশা প্রকাশ করেন, এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি বয়ে আনতে পারে। একইসঙ্গে সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতা দিতে পাকিস্তানের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।







