দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক করতে প্রিপেইড মিটার থেকে ধাপে ধাপে ডিজিটাল কার্ডভিত্তিক মিটারে রূপান্তর শুরু করেছে সরকার। বিদ্যুৎ বিভাগ ও বিতরণ সংস্থাগুলোর দাবি, এই নতুন পদ্ধতি বিলিং ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, নিয়ন্ত্রিত এবং প্রযুক্তিনির্ভর করবে। তবে বাস্তবায়নের শুরুতেই সাধারণ গ্রাহকদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ ও ভোগান্তির অভিযোগ উঠে এসেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ডিজিটাল কার্ড মিটারের মাধ্যমে গ্রাহক নির্দিষ্ট পরিমাণ বিদ্যুৎ আগাম কিনে ব্যবহার করতে পারেন। এতে বকেয়া বিলের ঝুঁকি কমে এবং বিদ্যুৎ ব্যবহারের ওপর সরাসরি নিয়ন্ত্রণ রাখা সম্ভব হয়। পাশাপাশি বিদ্যুৎ চুরি ও সিস্টেম লস কমানোও এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
তবে নগর ও গ্রামীণ জনজীবনে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। অনেক গ্রাহক অভিযোগ করছেন, কার্ড রিচার্জ পদ্ধতি এখনও পর্যাপ্তভাবে সহজলভ্য হয়নি। নির্দিষ্ট ভেন্ডর বা বুথে গিয়ে কার্ডে টাকা পরিশোধ করতে হয়, যা জরুরি সময়ে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করছে।
নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ক্ষেত্রে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক সামনে এসেছে। প্রিপেইড মিটারে অল্প অল্প করে রিচার্জ করার সুবিধা থাকলেও কার্ডভিত্তিক ব্যবস্থায় অনেক ক্ষেত্রে একসঙ্গে তুলনামূলক বেশি অর্থ জমা দিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে মাসিক বাজেটে চাপ বাড়ছে বলে জানিয়েছেন অনেক ভোক্তা।
জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা বলছেন, ডিজিটাল মিটার ব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর হতে পারে, যদি এর অবকাঠামো ও সেবা ব্যবস্থাপনা উন্নত করা যায়। সহজ রিচার্জ ব্যবস্থা, মোবাইল বা অনলাইন পেমেন্ট সংযুক্ত করা এবং গ্রাহক সচেতনতা বাড়ানো হলে এই রূপান্তর ইতিবাচক ফল দেবে।
সব মিলিয়ে, ডিজিটাল কার্ড মিটার চালুর ফলে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় আধুনিকতা ও স্বচ্ছতা বাড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হলেও, বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা না করলে জনজীবনে এর নেতিবাচক প্রভাব আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।







