ইরানকে ঘিরে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাতের প্রভাবে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। বহুমুখী অর্থনৈতিক কাঠামোর কারণে দেশটির বিমান চলাচল, পর্যটন, আবাসন ও আর্থিক খাত একসঙ্গে ধাক্কা খাচ্ছে, ফলে দীর্ঘদিনের স্থিতিশীলতার ভাবমূর্তিও প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
গত এক মাসে দুবাই ও আবুধাবির শেয়ারবাজারে বড় ধরনের পতন হয়েছে; তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর বাজারমূল্য কমেছে ১২০ বিলিয়ন ডলারের বেশি। একই সময়ে বাতিল হয়েছে ১৮ হাজারের বেশি ফ্লাইট, যা সরাসরি আঘাত হেনেছে বিমান ও পর্যটন খাতে। বিশেষ করে দুবাইয়ের বাজার সূচক দ্রুত নিম্নমুখী হয়েছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান ও দুবাইয়ের যুবরাজ শেখ হামদান বিন মোহাম্মদ নানা উদ্যোগ নিলেও বিশ্লেষকদের মতে, এতে আস্থা পুরোপুরি ফিরবে না।
সবচেয়ে বেশি চাপ পড়েছে আবাসন খাতে। লেনদেন কমে গেছে উল্লেখযোগ্য হারে, সম্পত্তির দাম কমাতে বাধ্য হচ্ছেন বিক্রেতারা। বড় ডেভেলপার কোম্পানিগুলোর শেয়ারও নিম্নমুখী। একই সঙ্গে জনসংখ্যা বৃদ্ধির গতি কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
পর্যটন খাতেও ধাক্কা স্পষ্ট। ইউরোপীয় পর্যটকদের ওপর নির্ভরশীল দুবাইয়ে আগমন কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। হোটেল বুকিং কমে যাওয়ায় কক্ষভাড়া হ্রাস পাচ্ছে। নিরাপত্তা উদ্বেগ ও কঠোর বিধিনিষেধ বিদেশিদের মধ্যেও অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
বিমান খাতেও বড় ধাক্কা লেগেছে। হামলার প্রভাবে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় হাজার হাজার ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এমিরাতস ও এতিহাদ এয়ারওয়েস-এর মতো বড় এয়ারলাইনস কার্যক্রম সীমিত করেছে, ফলে ক্ষতির পরিমাণ বাড়ছে।
সব মিলিয়ে, আঞ্চলিক সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে দুবাই ও আবুধাবিকেন্দ্রিক অর্থনীতির ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।







