চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে হামে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ জনে। এছাড়া হাম ও হামজনিত নিউমোনিয়ার উপসর্গ নিয়ে আরও অন্তত ২০ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এক রাতের ব্যবধানে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৮ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে এক শিশুর শরীরে রুবেলা ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত করেছেন চমেক হাসপাতালের শিশুস্বাস্থ্য বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. বেলায়েত হোসেন ঢালী। এর আগে হাসপাতালে ১০ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন ছিল এবং উপসর্গ নিয়ে ভর্তি ছিল ১৪ জন। গত তিন দিনে আক্রান্ত ও উপসর্গযুক্ত রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে শিশু ওয়ার্ডে আলাদা একটি ‘কর্নার’ করে রোগীদের রাখা হচ্ছে। তবে রোগীর চাপ বাড়ায় তীব্র শয্যা সংকট দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, অনেক ক্ষেত্রে এক শয্যায় একাধিক শিশুকে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।
চমেক হাসপাতালের শিশুস্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ও দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. জান্নাতুল আদম বলেন, ‘আক্রান্ত শিশুদের অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে। অবস্থার অবনতি হলে তাদের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘হাম ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুরা সবসময় ঝুঁকিতে থাকে। শিশু ওয়ার্ডে বেড সংকট থাকায় এক বেডে দুইজন করে রোগী রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আক্রান্তদের অনেকেই নবজাতক হওয়ায় তাদের হামের টিকা দেওয়ার বয়স হয়নি। একজন শিশু একটি ডোজ টিকা নিয়েছে।’
চিকিৎসকরা জানান, আক্রান্তদের মধ্যে অধিকাংশ শিশুর বয়স ১৫ মাসের নিচে। এমনকি ৬ মাসের কম বয়সী শিশুও রয়েছে, যাদের এখনো টিকা নেওয়ার বয়স হয়নি।
চিকিৎসকদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা হাঁচি-কাশির মাধ্যমে দ্রুত ছড়ায়। জ্বর, সর্দি, কাশি ও চোখ লাল হওয়ার পর শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেওয়া এর সাধারণ লক্ষণ। জটিলতা দেখা দিলে নিউমোনিয়াসহ গুরুতর অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) চট্টগ্রাম অঞ্চলের সার্ভেইল্যান্স টিমের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা. খাদিজা আখি জানান, ভর্তি হওয়া শিশুদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। দুই-তিন দিনের মধ্যে ফলাফল পাওয়া গেলে সিভিল সার্জনের মাধ্যমে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।







