মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে সূত্রের বরাতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
সংঘাত শুরুর প্রায় এক মাস পর ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে তার উপদেষ্টাদের জানিয়েছেন যে তার মতে যুদ্ধ এখন শেষ পর্যায়ে প্রবেশ করেছে।
তবে বাস্তবে যুদ্ধ শেষ করার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের হাতে বিকল্প খুবই সীমিত। শান্তি আলোচনা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।
সম্প্রতি ট্রাম্প কূটনীতির দিকেও কিছুটা আগ্রহ দেখিয়েছেন। তিনি ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার হুমকি থেকে কিছুটা সরে এসেছেন।
ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠদের মতে, তার সিদ্ধান্ত কখনো কূটনীতি, কখনো সামরিক উত্তেজনা এই দুইয়ের মধ্যে দোদুল্যমান। কিছু উপদেষ্টা কঠোর অবস্থান নেওয়ার পক্ষে, তারা মনে করেন ইরানে শাসন পরিবর্তন ঘটানো গেলে তা ট্রাম্পের রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের জন্য বড় সাফল্য হতে পারে।
তবে যুদ্ধের সমাপ্তি পুরোপুরি ট্রাম্পের নিয়ন্ত্রণে নয়। তেহরান সরাসরি আলোচনায় রাজি হয়নি, আর হরমুজ প্রণালী ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে ইসরায়েল নিজস্ব সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে এবং উপসাগরীয় দেশগুলোও পাল্টা পদক্ষেপ বিবেচনা করছে।
এদিকে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে ইরানের ওপর চাপ বজায় রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন এবং দ্রুত হামলার সক্ষমতা নিশ্চিত করতে হাজার হাজার অতিরিক্ত স্থলসেনা মোতায়েন করা হয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এই কৌশলকে ‘বোমা দিয়ে দরকষাকষি’ বলে বর্ণনা করেছেন। ট্রাম্প নিজেও বলেছেন, কিছু সামরিক কর্মকর্তা যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনায় অসন্তুষ্ট, কারণ তারা সমঝোতার চেয়ে পূর্ণ বিজয়কে অগ্রাধিকার দেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই যুদ্ধকে একটি সাময়িক ‘অভিযান’ বা ‘সামরিক অপারেশন’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন এবং ভেনেজুয়েলায় পূর্বের সামরিক পদক্ষেপ থেকে তিনি আত্মবিশ্বাস পাচ্ছেন।
দেশের ভেতরেও ট্রাম্প রাজনৈতিক চাপের মুখে আছেন। যুদ্ধ এবং অর্থনৈতিক উদ্বেগ, বিশেষ করে মূল্যস্ফীতি মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের সম্ভাবনায় প্রভাব ফেলতে পারে। এসব চ্যালেঞ্জের মধ্যেও ট্রাম্প রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি মার-এ-লাগোতে একটি তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে বলেছেন, যুদ্ধ ‘খুব ভালোভাবেই এগোচ্ছে’।
সূত্র: দি ইকোনোমিক টাইমস
প্রদা/ডিও






