চট্টগ্রামের পটিয়ায় মার্সা ও ঈগল পরিবহনের ত্রিমুখী সংঘর্ষে এক যাত্রী নিহত ও অন্তত ১৫ জন যাত্রী আহত হয়েছেন।
বুধবার (১৮ মার্চ) সকাল ১০টায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়া জলুয়ার দিঘী পাড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে গুরুতর ৪ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে দুই ঘণ্টা তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়, হাইওয়ে পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামমুখী মার্সা পরিবহনের একটি বাস জলুয়ার দিঘী পাড় এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা চট্টগ্রাম শহর থেকে লোহাগাড়ামুখী ঈগল পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় ঈগল পরিবহনের আরেকটি বাস এসে মার্সা বাসটিকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনটি বাসের চালক ও যাত্রীসহ অন্তত ১৫ জন আহত হন।
আহতদের মধ্যে ৯ জনকে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে বাঁশি মোহন দাশ (৫০) নামে ঈগল পরিবহনের এক যাত্রীকে মৃত ঘোষণা করা হয়। আহতদের মধ্যে মোহাম্মদ (৫), জয়নাল (৩০), মিন্টু দাশ (১৯), আনোয়ার (৩৮), নুরুল আজাদ (২৯), তাহের (৪৬), টিপু চৌধুরী (৩৬) ও শিরীন আক্তার (৪৭) প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।
পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. সামিয়া রওশন জানান, চারজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
মার্সা পরিবহনের যাত্রী মোহাম্মদ বাহার বলেন, জলুয়ার দিঘী পাড় এলাকায় খড়ের স্তূপ থেকে অনবরত ধোঁয়া বের হচ্ছিল। ধোঁয়ার কারণে সামনে কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। এতে মার্সা পরিবহনের বাসের চালক হঠাৎ ব্রেক করলে বিপরীত দিক থেকে আসা ঈগল পরিবহনের বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
পটিয়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার রাশেষ বড়ুয়া জানান, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে বাস থেকে আহত যাত্রীদের উদ্ধার করা হয়। তাৎক্ষণিকভাবে পানি দিয়ে খড়ের স্তুপের ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণ করা হয়। অতিরিক্ত ধোঁয়ার কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
পটিয়া হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মোস্তাফিজুর রহমান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে বাসগুলো জব্দ করা হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ উদঘাটনে কাজ চলছে। সরেজমিনে দুর্ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, জলুয়ার দিঘী পাড় এলাকায় দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। পটিয়া থানা ও হাইওয়ে পুলিশের দুটি টিম যানজট নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বেলা ১টা পর্যন্তও যানজট পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।
পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায় হৃদয়বিদারক দৃশ্য। নিহত যাত্রী বাঁশি মোহন দাশের মরদেহের সামনে তাঁর পরিবারের সদস্যরা আহাজারি করছেন। পরিবারের সদস্যরা জানান, তিনি চট্টগ্রাম শহর থেকে লোহাগাড়ার পুটিভিলা এলাকায় আত্মীয়ের বাড়িতে দাওয়াত খেতে যাচ্ছিলেন। এ দুর্ঘটনায় তাদের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
প্রদা/ডিও







