ঈদুল ফিতরকে ঘিরে টানা সাত দিনের ছুটি শুরু হচ্ছে আজ। এর মধ্যে নাড়ির টানে গ্রামের বাড়ির পথে ছুটতে শুরু করেছেন অনেক নগরবাসী। ফলে ধীরে ধীরে ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নগরজুড়ে চার স্তরের বিশেষ নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঈদের আগের দিন পর্যন্ত ধাপে ধাপে অন্তত ২০ লাখ মানুষ চট্টগ্রাম নগরী ছেড়ে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন। প্রতি বছর ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশের বড় শহরগুলো থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষ নিজ নিজ গ্রামে ফিরে যান, যার ফলে নগরীর আবাসিক এলাকা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও অফিসপাড়া অনেকটাই ফাঁকা হয়ে যায়। এ সময় ফাঁকা বাড়ি ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে কেন্দ্র করে চুরি, ডাকাতি বা ছিনতাইয়ের ঝুঁকি বাড়ে, তাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আগাম নিরাপত্তা জোরদার করে থাকে।
এই পরিস্থিতি বিবেচনায় নগর পুলিশের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা। চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মোড়, আবাসিক এলাকা ও বাণিজ্যিক স্থানে বাড়ানো হয়েছে টহল কার্যক্রম। ইউনিফর্মধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা পুলিশও বিভিন্ন স্থানে মোতায়েন থাকবে। একই সঙ্গে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ও প্রবেশমুখগুলোকে সিসিটিভি নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি থানাকে নিজ নিজ এলাকার আবাসিক অঞ্চল, ব্যাংক, এটিএম বুথ, বিপণিবিতান ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা চিহ্নিত করে বিশেষ নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আবাসিক ভবন ও হাউজিং এলাকায় দায়িত্ব পালনকারী বেসরকারি নিরাপত্তাকর্মীদেরও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি নাগরিকদেরও বাসা ফাঁকা রেখে গেলে প্রতিবেশী বা নিরাপত্তাকর্মীদের অবহিত করার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা জানান, ঈদের ছুটিতে নগরী ফাঁকা থাকলেও যাতে কোনো ধরনের অঘটন না ঘটে সে জন্য সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে একটি সমন্বিত অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি করা হয়েছে এবং প্রতিটি থানার ওসিদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ কর্মকর্তারা বলেন, ঈদের আনন্দ যাতে কোনোভাবেই নষ্ট না হয় এবং নগরবাসী নিশ্চিন্তে ঈদ উদযাপন করতে পারেন, সেটি নিশ্চিত করতেই আমাদের এই বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকবে। নগর পুলিশের কমিশনার হাসিব আজিজ গতরাতে দৈনিক আজাদীকে বলেন, ঈদে নগরবাসীর জানমালের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা যাতে নিশ্চিত হয় সেই প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। বিজিবি এবং এপিবিএন মোতায়েন করা হয়েছে। নগরবাসীর ঈদের নিরাপত্তা যাতে কোনোভাবেই বিঘ্নিত না হয় আমরা সেভাবেই পরিকল্পনা গ্রহণ এবং তা বাস্তবায়ন করছি।







