চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় স্থানীয় ঠিকাদার মোহাম্মদ সৈয়দ নুরের অবহেলার কারণে নির্মাণাধীন একটি ছয়-তলা ভবনে কাজ করার সময় মাচা ভেঙে পড়ে দুই নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে অভিযোগ উঠেছে।
রোববার (১ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার বটতলী ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের গুন্ধীপ ছাদেক আলী তালুকদার বাড়ির কালু সওদাগরের নির্মাণাধীন ভবনে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত শ্রমিকরা হলেন সিয়াম (১৯) ও মোহাম্মদ আনিস (২৫)। তাঁদের মধ্যে সিয়ামের বাড়ি কুষ্টিয়া জেলায় এবং আনিসের বাড়ি রাজশাহী জেলায় বলে জানা গেছে। তাঁরা দুজনই নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে ওই ভবনে ঠিকাদার মোহাম্মদ সৈয়দ নুরের অধীনে কাজ করছিলেন বলে জানান স্থানীয়।
জানা যায়,গুন্দীপ এলাকার কালু সওদাগরের নির্মাণাধীন ভবনটিতে এক বছর ধরে কাজ করে আসছেন স্থানীয় বটতলী মোল্লাপাড়া এলাকার ঠিকাদার মোহাম্মদ সৈয়দের পুত্র মোহাম্মদ সৈয়দ নুর। রোববার সকালে দুইজন শ্রমিক নির্মাণাধীন ছয়তলা ভবনের বাইরের অংশে প্লাস্টারের কাজ শুরু করেন। কাজের একপর্যায়ে ভবনের দক্ষিণ পাশে মাচার উপর দাঁড়িয়ে কাজ করার সময় হঠাৎ রেলিং ভেঙে পড়ে।এতে ভারসাম্য হারিয়ে মাচাসহ ভেঙে নিচে ধসে পড়লে ঘটনাস্থলেই সিয়ামের মৃত্যু হয়।পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় আনিসকে উদ্ধার করে দ্রুত আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ ভবনের রেলিং এর কাজ করেছিল সপ্তাহ পাঁচদিন আগে।সেগুলোর টেকসই না হওয়ার আগেই মাচা বেঁধে প্লাস্টারের কাজ করতে শ্রমিকদের বাধ্য করেন তিনি।সকালে সেই নির্মাণ শ্রমিকেরা মাচার উপর উঠে রেলিং এর ভার হয়ে কাজ করতে গেলেই এই দূর্ঘটনা শিকার হয় বলে জানান স্থানীয়রা।তারা আরও জানান যে নিম্নমানের রশি ব্যবহার করে মাচা বাধার কারণে রশিগুলো ছিড়ে গিয়ে সেনিটারিং কাঠগুলো সরে গেলেই নির্মাণ শ্রমিকেরা তাদের ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছিল যার কার কারণে রেলিং ভেঙে গেলেও মাচা শক্ত থাকলে তাদের এই দুর্ঘটনার শিকার হতে হতো না।
আশেপাশে ভবনে কাজ করা শ্রমিকরা জানান,দুজনেই ভবনের বাইরের দক্ষিণ অংশে প্লাস্টারের কাজ করছিলেন। হঠাৎ রেলিং ভেঙে দুইজন নিচে মাচায় পড়ে যান। এরপর মাচাটিও ভেঙে যায়। ঘটনাটি খুব দ্রুত ঘটে যাওয়ার কারণে কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই দুর্ঘটনা ঘটে।
এ বিষয়ে জানতে ওই ভবনের ঠিকাদার সৈয়দ নুরের সাথে একাধিকবার ফোন করে বক্তব্য জানতে চাইলে মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।
আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক মুনতাসির জাহিন বলেন,দুই নির্মাণ শ্রমিককে হাসপাতালে আনা হলে তাঁদের মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে।
আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন,ভবনে কাজ করতে গিয়ে দুজন নিহতের ঘটনায় পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।পরবর্তীতে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে এ ধরনের কোনো অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।







