যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনায় পারমাণবিক বোমা তৈরিতে ইরান কখনোই সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুদ না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বলে জানিয়েছেন ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর বিন হামাদ আল বুসাইদি। এই ঘটনাকে তিনি একটি ‘বড় সফলতা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ওয়াশিংটন ডিসিতে সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা জানান তিনি। খবর আল জাজিরা
বৃহস্পতিবার জেনেভায় ওমানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে তৃতীয় দফা পরোক্ষ আলোচনা শেষ হওয়ার পর আল বুসাইদি ওয়াশিংটন সফরে যান। শুক্রবার ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে দেখা করার পর এসব মন্তব্য করেন।
ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তিনি মনে করেন— ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চুক্তির সব অমীমাংসিত বিষয় আগামী কয়েক মাসের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ এবং ব্যাপকভাবে সমাধান করা সম্ভব।
তিনি বলেন, ‘যদি আমরা কূটনীতিকে প্রয়োজনীয় সুযোগ দেই… তবে একটি শান্তি চুক্তি আমাদের নাগালের মধ্যেই রয়েছে।’
আল বুসাইদি বলেন, ‘যদি চূড়ান্ত উদ্দেশ্য এই হয় যে ইরান যেন কখনোই পারমাণবিক বোমা তৈরি করতে না পারে, তবে আমি মনে করি এই আলোচনার মাধ্যমে আমরা সেই সমস্যার সমাধান করে ফেলেছি। আমরা এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জন করেছি যা আগে কখনো সম্ভব হয়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার মতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হলো—ইরান কখনোই এমন পারমাণবিক উপাদান রাখবে না যা দিয়ে বোমা তৈরি করা যায়, এই বিষয়ে তাদের সম্মতি।’
তিনি যোগ করেন, ‘এখন আমরা ‘শূন্য মজুদ’ নিয়ে কথা বলছি, এবং এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আপনি যদি সমৃদ্ধ উপাদান মজুদ করতে না পারেন, তবে আপনার পক্ষে বোমা তৈরি করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
তিনি উল্লেখ করেন, জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা (আইএইএ) এর মাধ্যমে ‘পূর্ণাঙ্গ ও ব্যাপক যাচাইকরণ’ প্রক্রিয়াও থাকবে।
ওমানের এ শীর্ষ কূটনীতিক আরও জানান, ইরান তাদের বর্তমান পারমাণবিক উপাদানের মজুদকে ‘সর্বনিম্ন সম্ভব স্তরে’ নামিয়ে আনবে যাতে সেগুলোকে জ্বালানিতে রূপান্তরিত করা যায় এবং সেই জ্বালানি থেকে পুনরায় উপাদান আহরণ করা অসম্ভব হবে।
আল বুসাইদি বলেন, ‘এটি সম্পূর্ণ নতুন একটি বিষয়। এটি সমৃদ্ধকরণ সংক্রান্ত বিতর্ককে অপ্রাসঙ্গিক করে তুলেছে, কারণ এখন আমরা শূন্য মজুদের কথা বলছি।’
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে সাম্প্রতিক মার্কিন দাবির বিষয়ে আল বুসাইদি বলেন, ‘আমি মনে করি ইরান সব বিষয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত।’
জেনেভার সাম্প্রতিক আলোচনা কি ইরানের ওপর মার্কিন হামলা ঠেকানোর জন্য যথেষ্ট ছিল?—এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি তাই আশা করি।’
তিনি বলেন, ‘আমরা যথেষ্ট অগ্রসর হয়েছি। তবে অবশ্যই কিছু খুঁটিনাটি বিষয় এখনো বাকি আছে, আর সে কারণেই একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য আমাদের আরও কিছুটা সময় প্রয়োজন।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘তবে মূল চিত্রটি হলো—একটি চুক্তি এখন আমাদের হাতেই আছে।’
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার জানান, জেনেভায় শেষ হওয়া সাম্প্রতিক আলোচনায় তিনি খুব একটা সন্তুষ্ট নন।
ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘তারা যেভাবে আলোচনা করছে তাতে আমরা ঠিক খুশি নই। ইরানের উচিত একটি চুক্তি করা। তারা যদি চুক্তি করে তবে সেটি হবে বুদ্ধিমত্তার কাজ।’
পরবর্তীতে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক শক্তি ব্যবহার না করলেই তিনি খুশি হবেন— ‘তবে মাঝে মাঝে এটা করতেই হয়।’
আগামী সোমবার অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় আরও এক দফা পরোক্ষ আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান প্রতিনিধিরা পুনরায় মিলিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রদা/ডিও







