অগ্নিকাণ্ড, ভূমিকম্প, বন্যা কিংবা পাহাড়ধস—দেশের যেকোনো দুর্যোগে প্রথম সারিতে থাকেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর-এর কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকরা। জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার সার্বিক দায়িত্ব পালন করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, আর উদ্ধার সরঞ্জামের বরাদ্দও দেয় তারা। কিন্তু অধিদপ্তরটি প্রশাসনিকভাবে পরিচালিত হয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-এর অধীনে। ফলে নির্দেশনা এক মন্ত্রণালয় থেকে এলেও নিয়ন্ত্রণ থাকে অন্য মন্ত্রণালয়ের হাতে—যা তৈরি করেছে দীর্ঘদিনের সমন্বয় সংকট।
একই চিত্র ভূমি খাতেও। জমি নিবন্ধন ও নামজারিসহ গুরুত্বপূর্ণ সেবা দেয় সাবরেজিস্ট্রার অফিস। অধিকাংশ কাজই ভূমিসংক্রান্ত হলেও এটি আইন ও বিচার বিভাগ-এর নিবন্ধন পরিদপ্তরের অধীন, ভূমি মন্ত্রণালয়-এর নয়। ফলে অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ এলে ভূমি মন্ত্রণালয় সরাসরি প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে পারে না।
মুসলিম বিবাহ নিবন্ধনের দায়িত্বে থাকা কাজী অফিসগুলোর অবস্থানও একই রকম। ধর্মীয় কার্যক্রম সম্পাদন করলেও এগুলো পরিচালিত হয় আইন মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধন কাঠামোর মাধ্যমে। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই নীরব টানাপোড়েন চলছে।
প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগ অতীতেও নেওয়া হয়েছিল। ২০০৮ সালে তৎকালীন উপদেষ্টা এ এফ হাসান আরিফ ভূমি রেজিস্ট্রি অফিস ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে আনেন। তবে পরবর্তী সরকার তা পরিবর্তন করে। পরে আবার বিষয়টি আলোচনায় এলেও আইন মন্ত্রণালয়ের আপত্তিতে অগ্রগতি থেমে যায়। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে প্রস্তাব উত্থাপনের প্রস্তুতি থাকলেও তা উপস্থাপন করা সম্ভব হয়নি।
২০২২ সালে জেলা প্রশাসক সম্মেলনে সাবরেজিস্ট্রার অফিসের কর্তৃত্ব দাবি করেন তৎকালীন ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী। তবে তৎকালীন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী এটি আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনেই থাকবে।
অন্যদিকে ২০১২ সালে তৎকালীন মন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন প্রণয়নের সময় ফায়ার সার্ভিসকে দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের অধীনে আনার উদ্যোগ নিলেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিরোধিতায় তা বাস্তবায়িত হয়নি।
সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল আইন সচিব থাকাকালে কাজী অফিসগুলো ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অধীনে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট সংগঠনের আপত্তিতে সেটিও আর এগোয়নি।
প্রশাসন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ‘এলোকেশন অব বিজনেস’ সংশোধন করে সংশ্লিষ্ট সেবাগুলো একীভূত না করলে হয়রানি ও জটিলতা কমবে না। তাদের মতে, মন্ত্রণালয়গুলোর ক্ষমতার টানাপোড়েনের চেয়ে জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি। অন্যথায় সমন্বয়হীন প্রশাসনের খেসারত গুনতেই হবে সেবাপ্রার্থীদের।
প্রদা/ডিও







