রাজধানীর গুলশান-২ এলাকায় অবৈধভাবে ফ্ল্যাট গ্রহণের অভিযোগে দুদকের করা মামলায় শেখ রেহানার মেয়ে ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিককে গ্রেপ্তারে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির আদেশ দিয়েছেন আদালত। দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন।
এদিন দুদকের সহকারী পরিচালক এ কে এম মর্তুজা আলী সাগর ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির আবেদন করেন।
আবেদনে বলা হয়, টিউলিপ সিদ্দিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে কোন টাকা পরিশোধ না করেই অবৈধ পারিতোষিক হিসেবে ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের নিকট থেকে অবৈধ সুবিধা নিয়ে রেজিস্ট্রি দলিল মূলে ফ্ল্যাট নং-বি/২০১, বাড়ি নং-৫এ ও ৫বি (পুরাতন), বর্তমানে- ১১এ, ১১বি (নতুন), রোড নং ৭১, গুলশান-২, ঢাকা- ১২১২ এর দখল বুঝে নেন।
আসামি টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিকের অনুকূলে গুরুতর অনিয়মের কারণে ফ্ল্যাটটি হস্তান্তরযোগ্য ছিলো না। তা জানা সত্ত্বেও টিউলিপ সিদ্দিক তার আপন খালা শেখ হাসিনা, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতায় থাকার সুবাদে এবং প্রধানমন্ত্রীর আপন ভাগ্নি হওয়ায় তাদের দলীয় প্রভাবিত রাজউকের আইন উপদেষ্টা হওয়ার সুবাদে রাজউকের আইন কর্মকর্তাকে অবৈধভাবে প্রভাবিত করে ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডকে আমমোক্তার অনুমোদনপূর্বক ও ফ্ল্যাট বিক্রয়ের অনুমোদন করিয়ে অবৈধ সুবিধা দেওয়া ও নেওয়ার মাধ্যমে অপরাধজনক যড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে ফ্ল্যাট বিনামূল্যে গ্রহণ করায় তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। মামলা দায়েরের আগেই আসামি টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক দেশত্যাগ করেছেন এবং মামলা প্রমাণে সহায়ক প্রমাণাদি ও আলামত বিনষ্ট করার চেষ্টা করছেন। তাই তাকে গ্রেপ্তার করা প্রয়োজন।
তবে, আসামি এরই মধ্যে দেশত্যাগ করায় তার গ্রেপ্তার করার জন্য ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারিপূর্বক গ্রেপ্তার করা একান্ত প্রয়োজন।এ মামলায় গত ১৮ ফেব্রুয়ারি টিউলিপ সিদ্দিক ও রাজউকের সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা সরদার মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা সংক্রান্ত তামিল প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৮ মার্চ দিন ধার্য করা হয়েছে।
অবৈধ সুবিধা নিয়ে ঢাকার গুলশানে ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের ফ্ল্যাট নেওয়ার অভিযোগে গত বছরের ১৫ এপ্রিল রিজওয়ানা সিদ্দিক, রাজউকের সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা শাহ মো. খসরুজ্জামান ও সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা-১ সরদার মোশারফ হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে কোনো টাকা পরিশোধ না করেই অবৈধভাবে ফ্ল্যাটটি দখল নেন ও পরে রেজিস্ট্রি করেন।
গত ১১ ডিসেম্বর দণ্ডবিধির ১৬১/১৬৫(ক)/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/১০৯ ধারায় এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক ও সরদার মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ পত্র দাখিল করেন দুদক। সেই অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।
এর আগে পূর্বাচলে প্লট বরাদ্দে জালিয়াতির পৃথক তিন মামলায় দুই বছর করে ছয় বছরের কারাদণ্ড হয়েছে টিউলিপের।
প্রদা/ডিও