দেশের শেয়ারবাজারে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠছেন বিদেশি বিনিয়োগকারীরা। টানা পাঁচ মাস শেয়ার বিক্রির চাপ থাকার পর চলতি বছরের জানুয়ারিতে তারা বিক্রির তুলনায় বেশি শেয়ার কিনেছেন। এতে বাজারে ইতিবাচক বার্তা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)–এর হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি মাসে বিদেশিরা ১৯৭ কোটি ৬২ লাখ টাকার শেয়ার কিনেছেন। বিপরীতে বিক্রি করেছেন ১৭৯ কোটি ৬১ লাখ টাকার। অর্থাৎ মাসটিতে নিট ১৮ কোটি ১ লাখ টাকার শেয়ার ক্রয় হয়েছে।
এর আগে টানা পাঁচ মাস—ডিসেম্বর থেকে আগস্ট পর্যন্ত—বিদেশিদের বিক্রির পরিমাণই বেশি ছিল। ডিসেম্বর মাসে ৩২ কোটি ৪০ লাখ টাকার শেয়ার কেনার বিপরীতে বিক্রি হয়েছিল ১১৩ কোটি ৩৮ লাখ টাকার। নভেম্বরে ৯৪ কোটি ৬ লাখ টাকার শেয়ার কেনার বিপরীতে বিক্রি ছিল ১৭৩ কোটি ৪১ লাখ টাকা। একই ধারা ছিল অক্টোবর, সেপ্টেম্বর ও আগস্টেও।
বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে অনিশ্চয়তার কারণে দেশি-বিদেশি অনেক বিনিয়োগকারী সতর্ক অবস্থানে ছিলেন। ফলে শেয়ার বিক্রির চাপ বেড়েছিল। তবে নির্বাচনকে ঘিরে শঙ্কা কেটে গেলে এবং নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বাজারে আস্থার পরিবেশ তৈরি হয়। এর পর থেকেই বিদেশিরা ধীরে ধীরে শেয়ার কেনায় মনোযোগী হন।
ডিএসইর এক সদস্য উদাহরণ দিয়ে বলেন, শেয়ার কেনা-বেচার ব্যবধান দিয়ে সরাসরি নিট বিনিয়োগ বেড়েছে না কমেছে তা নির্ধারণ করা যায় না। কারণ, কোনো বিনিয়োগকারী শেয়ার কিনে দাম বাড়ার পর আংশিক বিক্রি করলে সেটি মুনাফা উত্তোলন হতে পারে, বিনিয়োগ প্রত্যাহার নয়। নিট বিনিয়োগ জানতে হলে প্রকৃত বিনিয়োগ ও উত্তোলনের পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রয়োজন।
বিদেশি বিনিয়োগকারীদের পোর্টফোলিও পরিচালনাকারী একটি ব্রোকারেজ হাউজের শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিনিয়োগ সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রাখে। গত বছরের শেষদিকে নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল। তবে শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ায় বাজারে আস্থা ফিরছে। জানুয়ারির লেনদেন চিত্রে সেই পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
ডিএসইর পরিচালক মো. শাকিল রিজভীও মনে করেন, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়ছে। তার ভাষ্য, রাজনৈতিক সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ফলে বাজারে ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। সঠিক নীতি ও পরিকল্পনা থাকলে স্থানীয়দের পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগও বাড়তে পারে।
সার্বিকভাবে বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, জানুয়ারিতে বিদেশিদের নিট শেয়ার ক্রয় বাজারের জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত। তবে ধারাবাহিকতা বজায় থাকাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
প্রদা/ডিও







